শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২৩:২৫, ২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২৩:২৫, ২ এপ্রিল ২০২৬
আড়াইহাজারে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ১৬ মাস পর অপমৃত্যু মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ মেলায় নতুন করে মামলা নেওয়ার পর প্রধান আসামি প্রধান আসামি সরকারি সফর আলী কলেজের সাবেক জিএস ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা সুমন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে আড়াইহাজার থানায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বৈলারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিদনী আক্তার (২৩) ওই এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জিদনীর মা নাজমা আক্তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগে আটজনকে আসামি করেছেন। আসামিরা হলেন—সুমন মিয়া (৩২), তাঁর মা রুপালী বেগম, বাবা আব্দুল হান্নান হানু, বোন সুমনা আক্তার ও সিমা আক্তার, আত্মীয়া রোকসানা আক্তার, সাকিব ও মাইনুল হক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ জুলাই পারিবারিকভাবে জিদনীর সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা ও গরুসহ উপঢৌকন দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার রাতে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমন জিদনীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং অন্য আসামিরা এতে সহায়তা করেন। পরে বিষয়টি গোপন রেখে ভোরে তাঁকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পরিবার হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে মামলাটি হত্যা হিসেবে রূপান্তর করা হয়।
আড়াইহাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নতুন করে হত্যা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।