নারায়ণগঞ্জ  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মামলা নিতে গড়িমসি পুলিশের

সিদ্ধিরগঞ্জে সেলাই কর্মীর মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল, স্বজনদের দাবি হত্যা

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ০২:০৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২০:১০, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে সেলাই কর্মীর মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল, স্বজনদের দাবি হত্যা

বামে ভাইয়ের গেঞ্জি নিয়ে বোনের আহাজারি, ডানে নিহত বিপ্লব।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিপ্লব শেখ (২৭) নামে এক সেলাই কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল। কারখানার মালিক ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে 'স্বাভাবিক মৃত্যু' বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন মেলায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন নিহতের স্বজনরা। 

এদিকে এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিহতের স্বজনদের অভিযোগ নিতে পুলিশের গড়িমসি এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মামলা গ্রহণ করবেন ওসির এমন বক্তব্যে নিহতের স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহত বিপ্লব শেখ মুন্সিগঞ্জ সদর থানার রনছ এলাকার খোরশেদ শেখের ছেলে। 

তিনি গত আট বছর ধরে সিদ্ধিরগঞ্জে বসবাস করতেন এবং সাইনবোর্ড এলাকার মিতালী মার্কেটের ৫নং ভবনের চারতলায় আসাদুজ্জামান আসাদের মালিকানাধীন একটি কারখানায় সেলাই কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ওই কারখানা থেকে বিপ্লবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত একটা পুলিশ কোনো অভিযোগ বা মামলা গ্রহন করেনি। 

নিহতের বড় বোন সীমা আক্তার জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও মার্কেট সভাপতি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিচ্ছেন। শুরুতে তারা জানান বিপ্লব স্ট্রোকে মারা গেছেন। পরবর্তীতে আবার বলা হয় তিনি শৌচাগারে (ওয়াশরুমে) পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।

সীমা আক্তার আরও বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও মার্কেট সভাপতি তড়িঘড়ি করে আমার ভাইয়ের লাশটি আমাদের হাতে তুলে দিয়ে বিদায় করে দেন। আমরা মরদেহ গ্রামে নিয়ে গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। তখনই আমাদের সন্দেহ হয় যে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই কারখানার কাটিং মাস্টার শহীদুল্লাহর আচরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক। তিনি একেকবার একেক ধরনের বয়ান দিচ্ছেন। এছাড়া ভোর ৬টার সময় বিপ্লবকে কেন তড়িঘড়ি করে কারখানায় ডেকে আনা হয়েছিল, সেই প্রশ্নেরও কোনো সদুত্তর মিলছে না। পরিবারটি প্রথমে তাদের স্থানীয় থানায় গেলে সেখান থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়। 

এদিকে এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

এ বিষয়ে কথা বলতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. এমদাদুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

এদিকে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মোস্তফা কামালের মোবাইলে কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

থানার কর্তব্যরত অফিসার সামছুদ্দোহাকে ফোন করা হলে তিনি লাশের ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন