নারায়ণগঞ্জ  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁয়ে সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ : হামলা ও লুট

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৮:৪৭, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁয়ে সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ : হামলা ও লুট

সোনারগাঁয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিসিবি (ঞঈই)-তে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রিক্যাল) পদে কর্মরত মোঃ সফিকুল হক ভূইয়ার বসতবাড়িতে গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে সন্ত্রাসী খ্যাত এরশাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে।  

জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চাওয়ায় ওপরের চালের টিন কেটে ঘরে ঢুকে ওই কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সফিকুল হক ভূইয়া সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখী গ্রামে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার ও ভাড়াটিয়াদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও অপরাধী মোঃ এরশাদ (৩৫) তার পথরোধ করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তাকে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকিও দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১:০০ ঘটিকার সময় অভিযুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী এরশাদ ও ফয়সালের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী রামদা, ছুরি, ছেনা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে সফিকুল হকের বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা মেইন গেট ভাঙ্গার চেষ্টা করে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভাংচুর করে ভাড়াটিয়াদের ঘরে জোরপূর্বক তল্লাশি চালায়।

পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা শাবল দিয়ে মূল ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী সফিকুল হক তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে আইনি সহায়তা চান। পুলিশে খবর দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সন্ত্রাসীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা বসতঘরের চালের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সফিকুল হককে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

হামলার একপর্যায়ে ১ নম্বর বিবাদী এরশাদ হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে সফিকুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দিলে তার বাম হাত গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। অন্যদিকে ২ নম্বর বিবাদী ফয়সাল লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার ডান হাতের দুটি আঙুল ভেঙে দেয়। বাকি হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে।

সন্ত্রাসীরা ঘর থেকে অফিসের অগ্রীম বাবদ রাখা ৬৫,০০০ টাকা, মানিব্যাগে থাকা ২০,০০০ টাকা এবং ৪২,০০০ টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোনসহ দুটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। আহত অবস্থায় তিনি প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে পালিয়ে পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা তাকে পুনরায় টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার ভাঙা আঙুলে সেলাই প্রদানসহ জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মোঃ সফিকুল হক ভূইয়া জানান, অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী। প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও তাণ্ডব চালিয়ে তারা আমাকে পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন