নারায়ণগঞ্জ  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে মূর্তিমান আতংক পুলিশের সোর্স, ভয়ঙ্কর ফাঁদ আতংকে সাধারন মানুষ

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২১:৪০, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে মূর্তিমান আতংক পুলিশের সোর্স, ভয়ঙ্কর ফাঁদ আতংকে সাধারন মানুষ

সিদ্ধিরগঞ্জে মূর্তিমান আতংকের নাম পুলিশের সোর্স একাধিক মামলার আসামি ইকবাল, সাহাবুদ্দিন ও নয়ন।  যে কোন সময় যে কাউকে ফাঁসিয়ে দিয়ে ভয়ঙ্কর বিপদে ফেলতে পারে এরা।

সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করে। দাবিকৃত অর্থ না পেলে ফাঁসিয়ে দেয় মাদক বা অন্য কোন মামলায়। এরা সাধারণত পুলিশের গাড়িতে করে ঘুরে বেড়ায়। আর এটাই এদের সম্বল। 

এরা কখনও নিজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাজে। আবার কখনও একা বা সংঘবদ্ধ হয়ে ছিনতাই, অপহরণ, গুমসহ নানা অপরাধ করে বেড়ায়। পুলিশের সঙ্গে সম্পর্ক সূত্রে এরা চাঁদাবাজি ও মাদক বেটাকেনাসহ নানা অপরাধ করেই চলেছে।

তথ্য গোপন করার নামে এরা মাদক কারবারিসহ দাগী অপরাধীদের সঙ্গে আঁতাতও করে। এদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদকসহ একাধিক মামলা থাকলেও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো থানা এলাকা।  

নানা অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশের সোর্স ইকবাল, সাহাবুদ্দিন ও নয়ন সুযোগ বুঝে থানার পাশ্ববর্তী অন্য থানা এলাকাতেও নির্বিঘ্নে অপরাধ সংগঠিত করছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কয়েক পুলি কর্মকর্তা তাদেরকে শেল্টার দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সোর্সদের সহযোগিতা নিয়ে থাকে পুলিশ। এ সুযোগে তারা অপরাধী ছাড়াও অনেক নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করিয়ে স্পট থেকেই মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পুলিশের সঙ্গে সখ্যতার সুযোগে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে সোর্সরা। চাঁদাবাজি, দেহ ব্যবসা, মাদক ব্যবসাসহ এমন কোনো অপরাধ নেই, যা তারা নিয়ন্ত্রণ করছে না। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি দক্ষিনপাড়া এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে একাধিক মামলার আসামী ইকবাল, আব্দুল আলীর পুল এলাকার মৃত বিল্লাল হোসেনের ছেলে সাহাবুদ্দিন ও কদমতলী এলাকার নয়ন পুলিশের সোর্স পরিচয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। 

পুলিশের সাথেই  গাড়ি, মোটরসাইকেল, হ্যান্ডকাফ নিয়ে আসামি ধরতে ঘুরে বেড়ানোর কারনে অনেকে তাঁদেরকে পুলিশই মনে করে। বিভিন্ন জায়গায় নিজেই পুলিশ পরিচয়েও গ্রেফতারের নামে ফিটিং বানিজ্য করে বেড়ায়। 

সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটে তল্লাশির নামে ইকবাল, সাহাবুদ্দিন ও নয়ন ‘ফিটিং’ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। রাতে চলাচলরত মানুষকে তল্লাশির নামে পকেটে ইয়াবা কিংবা গাঁজার পুরিয়া দিয়ে ফিটিং দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আবার কখনও কখনও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়েও সে নিরপরাধ মানুষের অর্থকড়ি হাতিয়ে নেয়।

এছাড়াও পুলিশের সাথে আতাত করে ইকবাল, সাহাবুদ্দিন ও নয়ন বিভিন্ন এলাকায় মাদক সাপ্লাই দিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে উঠতি বয়সের যুবকদের ভবিষ্যৎ। 

একাধিক সূত্রমতে, সোর্সের ভুয়া তথ্যে পুলিশ সদস্যদেরও অনেক সময় অনাকাক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। আবার অপরাধীদের নির্বিঘ্নে অপরাধ সংঘঠিত করে পার পেয়ে যায়। ইকবাল, সাহাবুদ্দিন ও নয়ন সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকায় দাবিয়ে বেরাচ্ছে। 

বিশেষ করে নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড শিমরাইল এলাকার প্রতিটি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৬টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত গড়ে ৫’শ থেকে ১’হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে এবং পুলিশ আসার ভয় দেখিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক কালিন ৫ থেকে ১০’হাজার টাকা আদায় করে সোর্স ইকবাল ও সাহাবুদ্দিন। 

অপরদিকে সোর্স নয়ন নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ অভিযানে আসার আগেই সোর্সরা মাদক ব্যবসায়ীদের বলে দেয় পুলিশ আসতেছে এখন মাদক ব্যবসা বন্ধ কর, অন্যথায় ধরে নিয়ে গেলে আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। 

সোর্স সাহাবুদ্দিনের শাশুরি শাহানাজ শিমরাইল এলাকায় দীর্ঘদিন হেরোইন বিক্রয় করে আসছে। তার শাশুরিসহ অনেক মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক সরবরাহ করে দিচ্ছে সাহাবুদ্দিন ও ইকবাল। 


সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। যদি কোন সোর্স মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশের নাম করে চাঁদা আদায় করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন