নারায়ণগঞ্জ  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁও জাদুঘরের সিবিএ নেতা দিলোয়ারের বিরুদ্ধে পরকীয়া ও দুর্নীতির অভিযোগ

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩:২৪, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:২৫, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁও জাদুঘরের সিবিএ নেতা দিলোয়ারের বিরুদ্ধে পরকীয়া ও দুর্নীতির অভিযোগ

জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁও জাদুঘর)।

তবে আলোকোজ্জ্বল এই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পেছনে অনৈতিকতা ও অনিয়মের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার টাইপিস্ট, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা হিসাব সহকারী এবং কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. দিলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উঠেছে পরকীয়া, স্ত্রীকে নির্যাতন, শ্বশুরবাড়ির টাকা আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ।

​ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে ঐশী বিনতে আউয়াল ও দিলোয়ার হোসেন দম্পতির চার বছর বয়সী এক কন্যা ও দুই বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি অন্য এক নারীর সঙ্গে দিলোয়ারের অনৈতিক সম্পর্কের তথ্য-প্রমাণ ও কয়েকটি আপত্তিকর ভিডিও স্ত্রীর হাতে আসার পর থেকেই সংসারে বড় ধরনের অশান্তি শুরু হয়।

​স্ত্রীর ঐশীর অভিযোগ, পরকীয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর দিলোয়ার আর সংসার চালাতে ইচ্ছুক নন। উল্টো স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং আদালতে মামলা ঠুকে দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, শ্বশুরবাড়ি থেকে ধার নেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত দিতেও তিনি সরাসরি অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। দুই অবুঝ শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও দিলোয়ার তাতে সাড়া দেননি।

বাধ্য হয়ে দুই শিশুসন্তানের অধিকার ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় আদালতের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে ঘুরছেন অসহায় এই নারী। প্রতিকার চেয়ে তিনি ইতোমধ্যেই সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​এদিকে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে দিলোয়ার হোসেনের বেপরোয়া মনোভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি একটি নিজস্ব বাহিনী ও সিন্ডিকেট গড়ে তুলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নাম ভাঙিয়ে জাদুঘরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে আসছেন। তাঁর এমন অনৈতিক আচরণ ও পারিবারিক নিপীড়নের বিষয়ে জাদুঘরের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমের কাছে ভুক্তভোগী স্ত্রী ও শ্বশুর স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করলেও রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত দিলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ওই নারীর সঙ্গে আমার কোনো অবৈধ সম্পর্ক নেই, সে আমার সাবেক স্ত্রী। আর বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে কেবল পারিবারিক ঝামেলা চলছে।

​এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

​জাতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ভুক্তভোগী পরিবারটির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন সচেতন মহল।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন