শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:৫৬, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৬, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
বন্দর থানাধীন কল্যাণদী এলাকায় ঝাড়-ফুঁক ও তন্ত্র-মন্ত্রের আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণা এবং ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নিরীহ মানুষের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ফকির রশীদ ওরফে ‘গ্লুপ রশীদ’ (৬০)-এর বিরুদ্ধে।
লেবাসে ধার্মিকের ছাপ থাকলেও তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, ভূয়া মামলা দায়ের, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের কাছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রশীদ দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগ ব্যাধি যেমন—জন্ডিস, জ্বর, পারিবারিক অশান্তি, অবাধ্য সন্তানকে বশ করা কিংবা পছন্দের মানুষকে পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ধর্মীয় আকিদা-বিরোধী এই তন্ত্র-মন্ত্রের ফাঁদে ফেলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বহু পরিবার তার এই প্রতারণায় নিঃস্ব হলেও তার অদৃশ্য শক্তির কারণে এতদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি।
শুধুমাত্র চিকিৎসার নামেই প্রতারণা নয়, রশীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগ হলো তিনি একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু। তিনি অন্যের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নিজের দাবি করে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে থাকেন।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ শরীফ হোসেন (৬৭)।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বন্দর থানাধীন হারদি মৌজায় (আর.এস ৪৬ ও ২৭ নং খতিয়ান, আর.এস ৩৩ ও ৪১ নং দাগ) দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা শরীফ হোসেন ও তার পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি কোনো দলিল-দস্তাবেজ ছাড়াই কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে দখলের চেষ্টা করেন রশীদ। রশীদ মিয়া নিজে ও তার আম-মোক্তার মোঃ সুরুজকে বাদী করে বন্দর দেওয়ানী আদালতে একাধিক মামলা (মামলা নং- ৪১৪/২২ ও ৫১৬/২২) দায়ের করেন।
গত ০৪/০৮/২০২৬ ইং তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ আদালত বাদীদের (রশীদ ও সুরুজ) কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মামলা খারিজ করে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে ডিগ্রি প্রদান করেন।
আদালতের রায়ে হেরে গিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রশীদ ও তার চক্র। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীরা নিজ জমি পরিষ্কার ও পাড় বাঁধতে গেলে গত ০৭/০৯/২০২০ ইং তারিখ দুপুরে রশীদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করে গালাগালি ও মারমুখী আচরণ করে কাজ বন্ধ করে দেয়।
তাছাড়া, আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকা সত্ত্বেও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পুলিশকে কাজে লাগানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। সর্বশেষ গত ০৪/১০/২০২৬ ইং তারিখে অভিযোগকারী টেলিফোনে ০১৮৫২৭৮১০৭৫ -এই নাম্বার থেকে শরীফ হোসেনকে জমিতে গেলে হত্যা করে লাশ গুম/কবর দেওয়ার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে বন্দর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
কল্যাণদী এলাকার সাধারণ গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, রশীদের জমির প্রতি লোভ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভুয়া দলিল, আম-মোক্তার দিয়ে অপরিচিত লোকদের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা এবং হয়রানি করে তিনি মালিকদের আপস করতে বাধ্য করেন।
প্রতারক, ভুয়া মামলাবাজ ও ভূমিদস্যু রশীদ এবং তার সহযোগীদের হাত থেকে এলাকা ও পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ কল্যাণদীবাসী।