নারায়ণগঞ্জ  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কাউন্সিলর প্রার্থী হচ্ছেন সেই দিদার!

তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২২:৪৮, ১ এপ্রিল ২০২৬

কাউন্সিলর প্রার্থী হচ্ছেন সেই দিদার!

নারায়ণগঞ্জ শহরে ফ্যাসিস্টদের দোসর ওসমান পবিারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে অত্যান্ত সুপরিচিত ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দিদার খন্দকার। কারণ, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে ফ্যাসিস্টদের সাথে সম্পর্ক থাকার কারণে সে সময়ে তিনি অনেকটা বুক ফুলিয়ে চলেছেন শহরে। ছিলো না হামলা মামলার কোন ভয়। অথচ সে সময়ে বিএনপি নেতারা আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে ছিলো বাড়ীঘর ছাড়া।

জানাগেছে, ফ্যাসিস্টদের শাসনামলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের অত্যান্ত ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন দিদার খন্দকার। সেলিম ওসমানের সাথে সখ্যতা রেখে তিনি শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাটটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন। সেই ঘাটটি দিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। গড়েছেন বিশাল অট্টালিকা। 

এছাড়াও সেলিম ওসমানের পরিচয়ে তিনি তখন অনেক সুবিধাও নিয়েছেন। পরে সেলিম ওসমান বিষয়টি টের পেয়ে দিদারকে সরিয়ে এ ঘাটের দায়িত্ব দেন মহানগর যুবদলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনুকে। ৫ আগস্টের সাজনু আত্মগোপনে চলেগেলে সেই ঘাটটি কথিত পাওয়ারের নামে আবারও দখল করে নেন দিদার। বর্তমানে ঘাটটি তার দখলেই আছে।

সেই দিদার এবার স্বপ্ন দেখছেন জনপ্রতিনিধি হবার। আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি নগরীর ১৪নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে লড়বেন বরে জানা গেছে। এ জন্য তিনি ১৪নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ফ্যাস্টুন সাঁটিয়ে ওয়ার্ডবাসীর নজরে আসার চেষ্টা করছেন।  

এদিকে দিদারের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার খবরে বেশিরভাগ ওয়ার্ডবাসীই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, তিনি (দিদার) কিভাবে কাউন্সিলর হওয়ার স্বপ্ন দেখেন? তিনি এ ওয়ার্ডবাসীর জন্য বিগত সময়ে কি করেছেন?

সাবেক সাংসদ সেলিম ওসমানের সাথে আতাঁতঁ করে নিজের আখের ঘুচিয়েছেন। আলিশান বাড়ী করেছেন, কমিউনিটি সেন্টার করেছেন কিন্তু ওয়ার্ডবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে তিনি কি করেছেন? করোনা মহামারীর সময়ওতো তাকে পাশে পাওয়া যায়নি!  

ওয়ার্ডবাসী আরও বলেন, ওয়ার্ডবাসীর বা দলের কথা ভাবলে বিএনপির নেতা হয়ে ওই ওসমানদের সাথে আতাঁতঁ করতো না। এরা নিজেদেও নিয়েই চিন্তা করে। তাই ওয়ার্ডবাসী সকলেরই উচিৎ দিদারকে প্রত্যাখান করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতারা বলেন, আসলে এ সমস্ত লোকদের কারণেই বিএনপি এতটা বছর ক্ষমতা থেকে দূরে। এরা টাকার কারণে আদর্শ বিক্রি করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। এরাই হলো ফ্যাসিস্টদের আসল দোসর, যারা আমাদের দলের মধ্যেই ঘাপটি মেরে বসে আছে। এরা আমাদের জন্য ভয়ংকর। 

ফ্যাসিস্টদের আমলে এঁরা ফ্যাসিস্টদের লোক আবার বিএনপি ক্ষমতায় এলে এরাই আবার বিএনপির লোক পরিচয় দেয়। এঁরা সব সময়ই ভালো থাকে। আবার আমরা বিএনপির জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে কারানির্যাতনসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হই।

বিএনপি নেতারা দিদারকে চেলেঞ্জ দিয়ে বলেন, দিদার যদি বলতে পারে বিএনপির জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি একটি বারের জন্য হলেও কারানির্যাতন হয়েছেন, তাহলে কথা দিচ্ছি আমরা বিএনপি ছেড়ে দিবো। তিনি কারানির্যাতনতো দূরের কথা একটাও মামলা খেয়েছেন কি না, সেটাও সন্দেহ রয়েছে। 

যখন আমরা দৌঁড়ের উপরে, তখন তিনি সেলিম ওসমানের লোক পরিচয়ে দিব্যি শহর ঘুরে বেড়িয়েছেন। এসমস্ত লোক আবার বিএনপির পরিচয় দেয় এবং কাউন্সিলর হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কতটা দুঃসাহস হলে তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার কথা মুখে আনতে পারেন? 

আমাদের সত্যিই অবাক লাগে, কষ্ট লাগে। আসলে কারা এদের আশ্রয় প্রশয় দেয়? কাদের সাহসে তিনি কাউন্সিলর হওয়ার স্বপ্ন দেখেন? এঁরা যদি কাউন্সিলর প্রার্থী হয় তাহলে বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা কি করবে?

বিএনপি নেতারা অনুরোধ রেখে বলেন, যারা আমাদের মত বিএনপির আদর্শে বিশ্বাস করেন, যারা শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাদের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ থাকবে দয়া করে আপনারা এদের মত স্বার্থবাদীদের কোন আশ্রয় প্রশ্রয় দিবেন না। কারণ, এরা দল ও সবার জন্য ক্ষতিকর।

 বিএনপির চরম দুর্দিনে এঁরা স্বার্থের জন্য নিজ দল ও আদর্শকে বিক্রি করে দিয়েছিলো। যা সকল নেতাকর্মীদের মনে রাখা উচিৎ। তাই এদের কাছ দূরে থাকার জন্য সকল নেতাকর্মী এবং বিশেষ করে ১৪নং ওয়ার্ডবাসীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন