শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২১:০৩, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
একদিন পরেই পর্দা নামছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার। শেষ মুহূর্তে এসে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র (বিসিএফইসি)-এ ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে পুরো প্রাঙ্গণ।
সকাল থেকে রাত চারদিকেই মানুষের চলাচল, কেনাকাটার ব্যস্ততা। বিক্রি বাড়াতে মেলার প্রায় সব প্যাভিলিয়ন ও স্টলেই চলছে বিশেষ ছাড় ও আকর্ষণীয় অফার। দেশীয় পণ্যের স্টলগুলোতে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি ভিড়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এবারের ৩০তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আগামী ৩১ জানুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্ধারিত সময়েই মেলার সমাপ্তি ঘটছে বলে জানিয়েছেন মেলার পরিচালক ও ইপিবি সচিব তরফদার সোহেল রহমান। তবে অনেক ব্যবসায়ীরই মত, আরও কয়েক দিন সময় বাড়ানো গেলে বিক্রি আরও ভালো হতো।
শুক্রবার 30 জানুয়ারী ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে। বিভিন্ন স্টলে ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা টানতে শেষ সময়ে ছাড়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গৃহস্থালি সামগ্রী, ইলেকট্রনিক পণ্য, পোশাক, ফার্নিচার ও খাদ্যপণ্যের স্টলগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। বিক্রয়কর্মীদের দম ফেলার ফুরসত নেই।
মেলায় সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে মাটির তৈরি তৈজসপত্র, প্লাস্টিক ও স্টিলের গৃহস্থালি সামগ্রী, অ্যালুমিনিয়াম ফার্নিচার এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যে। কুকার, রাইস কুকার, জুস মেকার, ব্লেন্ডার ও ওভেনের স্টলে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। সাইকেল বিক্রেতারাও দিচ্ছেন বড় ছাড়। একটি নির্দিষ্ট মডেলের সঙ্গে ফ্রি বাইক ট্রেইনার দেওয়া হচ্ছে, আবার কোনো কোনো মডেলে মিলছে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।
পোশাকের স্টলগুলোতেও শেষ সময়ের বিশেষ অফার। ব্লেজার, থ্রি-পিস ও ফ্যাশনেবল পোশাক তুলনামূলক কম দামে মিলছে। কয়েকটি স্টলে ‘গোল্ডেন অফার’ বা ‘ফ্যামিলি অফার’-এর নামে একাধিক পণ্য একসঙ্গে কিনলে বাড়তি ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফার্নিচার প্যাভিলিয়নগুলোতে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের পাশাপাশি ফ্রি হোম ডেলিভারির সুবিধা রয়েছে।
খাদ্যপণ্যের প্যাভিলিয়নগুলোও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বিভিন্ন বেকারি ও স্ন্যাকস ব্র্যান্ড দিচ্ছে ‘সেভার প্যাকেজ’, যেখানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে একাধিক পণ্য কেনা যাচ্ছে। দুটি বা চারটি পণ্য কিনলে একটি ফ্রি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
মেলার বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে মাটির তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রীর প্যাভিলিয়ন। আধুনিক পণ্যের ভিড়ের মধ্যেও ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ফুলদানি ও ঘর সাজানোর নানা নকশার পণ্যে ভিড় করছেন তরুণরাও। দর্শনার্থীদের মতে, এসব পণ্য স্বাস্থ্যকর, নান্দনিক এবং দামে সাশ্রয়ী।
নরসিংদী থেকে পরিবার নিয়ে আসা মাহাবুব মোল্লা বলেন, মেলার শেষের দিকে সাধারণত সবচেয়ে ভালো ছাড় পাওয়া যায়। তাই সময়টা বেছে নিয়েই আসা। আরেক ক্রেতা রেহানা আক্তার জানান, এক জায়গায় কম দামে প্রয়োজনীয় সব পণ্য কেনার সুযোগ থাকায় বাণিজ্যমেলার বিকল্প নেই।
এবারের মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৭টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল রয়েছে। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধায় কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিআরটিসির ডেডিকেটেড শাটল বাস চলাচল করছে। শেষ দিনে ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজক ও ব্যবসায়ীরা।