শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:২৯, ২২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩১, ২২ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটে সারা দেশে তিন শতাধিক গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের রপ্তানি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপের ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
শনিবার (২২ আগষ্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ কার্যালয়ে গ্যাস সংকট ও এর প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ হাতেম।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের প্রভাবে সারা বাংলাদেশে তিন শতাধিক গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। রপ্তানি আদেশ চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে। নতুন করে রপ্তানি আদেশ আসবে কি না, সেটা নিয়েও আমরা শঙ্কার মধ্যে আছি। কোনোভাবেই উৎপাদন চালু রাখতে পারছি না।
এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে সরকারের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাচ্ছি না। সরকারের উচিত অন্তত প্রতি সপ্তাহে একবার আমাদের ব্রিফিং করা। এরই মধ্যে আমাদের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি আমাদের সরাসরি ক্ষতি। আর পরোক্ষ ক্ষতি হচ্ছে, বায়াররা (ক্রেতারা) পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অর্ডার নিয়ে যাচ্ছে।
গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট চলছে। এ সময়ে অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ আগস্টের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুই দিন কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ফলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপের বড় একটি অর্ডার বাতিল করে পার্শ্ববর্তী দেশে নিয়ে যেতে চাইছে। আমরা সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি আদেশ দিতে পারব কি না, সেটা নিয়েও শঙ্কিত। গ্যাস সংকটের কারণে বেশ কিছু রপ্তানি আদেশ ইতোমধ্যে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সরকারকে অনুরোধ করব, এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।
এসময় ব্যবসায়ী নেতারা গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জুন-জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া এবং এ সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা। সংকটের মধ্যে কারখানাগুলো কীভাবে উৎপাদন চালাবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া গ্যাস সংকট নিয়ে সরকারকে প্রতি সপ্তাহে ব্রিফিং করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা, গণপরিবহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের ঋণের কিস্তি আদায় থেকে বিরত থাকার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ফজলে এহসান শামীম, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল, সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি কাজী মনীর, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অমল পোদ্দার, ভাইস প্রেসিডেন্ট আশিকুর রহমান, পরিচালক নজরুল ইসলাম স্বপন ও পরিচালক মামুনুর রশীদসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।