শিরোনাম:
এম এ মাসউদ বাদল :
প্রকাশ: ২৩:২৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামের পরিধি অনেক বড়। ইসলাম কেবলমাত্র কতকগুলো আনুষ্ঠানিকতা নয়। কেবলমাত্র তসবিহ নিয়ে বসে থাকলেই চলবে না। প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর নেওয়া, অভুক্তকে আহার দেওয়া, পোশাকহীনকে পোশাক দেওয়া, রোগীর সেবা করা, অভাবীকে দান করা, এয়াতীম, মিসকীন, বিধবাকে সাহায্য করা, আত্মীয়দের খোঁজ, নেওয়া, বাড়ীর পোষা বিড়ালটিও খেল কিনা তা খেয়াল করা, উত্তম ব্যবহার, নম্র আচরন ইত্যাদি সবই ইসলাম।
অবশ্য ইত্যাকার কাজগুলো করতে হবে কেবলমাত্র আল্লাহর ভালবাসা লাভ বা সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে- সুনাম, সুখ্যাতি বা থ্যাংকস পাওয়ার জন্য নয়। উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি বা ভালবাসা অর্জন ছাড়া অন্য কিছু হলে তা আল্লাহ গ্রহণ করবে না। নীচে জনসেবা বা মানব সেবার উপরে দয়াল-নবী (সাঃ) এর একটি হাদীস উল্লেখ করা হচ্ছে।
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন বলবেনঃ হে বনি আদম! আমার অসুখ করেছিল, অথচ তুমি তো আমার সেবা করোনি? সে বলবেঃ ওহে মাওলা! আপনিতো নিখিল জগতের রব, আমি কি করে আপনার সেবা করতে পারি?
তিনি বললেনঃ তোমার কি স্মরণ নেই যে, আমার অমুক বান্দাহর অসুখ করেছিল, কিন্তু তুমি তার সেবা করোনি? তুমি কি জান না, তুমি যদি তার সেবা করতে তবে অবশ্যি তার নিকট আমাকে পেতে? হে বনি আদম !
তোমার নিকট আমি আহার্য চেয়েছিলাম, অথচ তুমি আমাকে আহার্য দান করোনি। সে বলবেঃ হে আমার মালিক! আপনি তো রাব্বুল আলামীন, আপনাকে কেমন করে আমি আহার্য দান করতে পারি? তিনি বলবেনঃ তোমার কি স্মরণ নেই, আমার অমুক বান্দাহ তোমার নিকট আহার্য চেয়েছিল অথচ তুমি তাকে আহার্য দান করোনি?
তুমি কি জান না, তুমি যদি তাকে আহার্য দান করতে তবে অবশ্যি আমাকে তার নিকট পেতে? হে বনি আদম! আমি তোমার নিকট পানি পান করতে চেয়েছিলাম, অথচ তুমি আমাকে পানি পান করতে দাওনি। সে বলবেঃ ওগো প্রভূ! তুমি তো রাব্বুল আলামীন, তোমাকে পান করানো কি আমার জন্য সম্ভব?
তিনি বলবেনঃ আমার অমুক বান্দাহ তোমার নিকট চেয়েছিল, অথচ তুমি তাকে পানি পান করাওনি, তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে তবে এর পুরস্কার অবশ্যি আমার নিকট পেতে। (তথ্যসূত্রঃ সহীহ মুসলিম।)
ব্যাখ্যাঃ ‘আমার অসুখ হয়েছিল’, “আমি আহার্য চেয়েছিলাম’, ‘আমি পানি পান করতে চেয়েছিলাম”- এই মানবীয় বৈশিষ্ট্যগুলো কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা নিজের প্রতি আরোপ করবেন বনি আদমকে মর্যাদা দানের জন্যে। ‘তবে অবশ্যি তার নিকট আমাকে পেতে’ মানে তবে অবশ্যি একাজের প্রতিদান ও পুরস্কার আমার নিকট পেতে।
এ হাদীসটিতে জনসেবার প্রতি ব্যাপক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অনেকগুলো হাদীসে নবী পাক (সাঃ) মু‘মিনদেরকে রোগীর সেবার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। ইয়াতীম, মিসকীন প্রভৃতি দরিদ্রদের পানাহার করানোর বিষয়ে বহু হাদীস ছাড়াও স্ময়ং কুরআন পাকেও তাকীদ করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা কুরআন মজীদে নেক্কার লোকদের বৈশিষ্ট বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ “আর তারা আল্লাহর ভালোবাসায় মিসকীন, ইয়াতীম এবং কয়েদীদের খাবার খাওয়ায় এবং (তাদের বলে) আমরা কেবল আল্লাহরই জন্যে তোমাদের খাওয়াচ্ছি। তোমাদের কাছে আমরা না কোনো প্রতিদান চাই আর না কৃতজ্ঞতা”। (আদ-দাহার ঃ৮-৯)।
বিশ্বওলী খাজাবাবা হযরত ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব বলেন, শুধুমাত্র তসবিহ হাতে বসে থাকাই বন্দেগী নয়। বন্দেগী অনেক প্রকারের। অভুক্তকে খাওয়ানো, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান, অসুস্থ্যকে সেবা প্রদান, প্রতিবেশীর খোঁজ খবর নেওয়া-সবই বন্দেগীর অন্তর্ভুক্ত।”
কাজেই আসুন আমরা যে যেখানে আছি সেখান থেকেই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সাধ্যানুযায়ী জনসেবা বা মানব সেবায় আত্মনিয়োগ করি। দয়াল নবীজীর (সাঃ) খাতিরে, বিশ্বওলী খাজাবাবা হযরত ফরিদপুরীর (কুঃ ছিঃ আঃ) অছিলায় আল্লাহপাক আমাদেরকে জনসেবা মূলক কাজ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।