শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৮:৩১, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৯, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সার্বজনীন, আনন্দমুখর ও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় আনসার ও ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের এক বিশেষ বিফ্রিং প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিফ্রিং প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনসার ও ভিডিপির ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান গনী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান গনী জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে আনসার ও ভিডিপির ৬ সদস্যের একটি করে দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
সদস্যদের সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব বন্টনের সুবিধার্থে পুরো প্রক্রিয়াক দুটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে প্রথম অংশ নির্দিষ্ট দিনে এবং বাকি অংশ পরবর্তী ধাপে দায়িত্ব পালন করবেন।
আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর এবং পূজা পরবর্তী সময় পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পুরুষ ও নারী আনসার সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবেন। এমনকি প্রতিমা বিসর্জনের পরও পরবর্তী দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ মাঠে বহাল থাকবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধান অতিথি জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালিত ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রতিটি পূজামণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজন প্রশিক্ষিত সদস্য তাদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা আশঙ্কার খবর তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপে আপলোড করবেন, যা দেখে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
বিগত বছরগুলোর বিভিন্ন ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উপমহাপরিচালক সতর্ক করে বলেন, সাধারণত শেষ রাতে বা ভোরের দিকে যখন উপস্থিতি কম থাকে এবং দায়িত্বরতরা ক্লান্ত থাকেন, তখন দুষ্কৃতকারীরা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ খোঁজে। তাই বিশেষ করে শেষ রাতে ও ভোরের দিকে বাড়তি সতর্কতা ও সর্বোচ্চ নজরদারি বহাল রাখতে হবে।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো হলে সাথে সাথে পূজা কমিটির সহায়তায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে বিভ্রান্তি দূর করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত সদস্যদের অত্যন্ত সজাগ ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বাহিনীর কোনো সদস্যের সামান্য অবহেলা বা অমনোযোগিতার কারণে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। তিনি মনে করিয়ে দেন যে সদস্যরা এখন আর সাধারণ নাগরিক নন, বরং একটি শৃঙ্খলা বাহিনীর অংশ; তাই আচরণেও সেই শৃঙ্খলার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
তিনি আরও নির্দেশনা দেন যে পূজার দিনগুলোতে কোনো ধরনের স্পর্শকাতর ছবি বা সম্প্রীতি হানি ঘটে এমন কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা যাবে না। জনগণের সাথে মার্জিত ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করতে হবে, যাতে কোনো অবস্থাতেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বন্ধু মনে করেন। প্রশাসন থেকে নারী সদস্যদের ডিউটির সময় রাত আটটা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বাকি সদস্যরা সার্বক্ষণিক পূজামণ্ডপে অবস্থান করবেন। চেইন অব কমান্ড মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, কমান্ডারের অনুমতি ছাড়া কেউ মণ্ডপ ত্যাগ করতে পারবেন না।
সভাপতির বক্তব্যে সদর ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়, বরং এটি আমাদের সকলের এক সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসবের দিনগুলোতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। পূজা মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য আনসার বাহিনীকে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
ইউএনও আরও নির্দেশ দেন যে, উৎসবের দিনগুলোতে প্রতিটি পূজামণ্ডপের সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। যেসব মণ্ডপে এখনও সিসি ক্যামেরা পুরোপুরি সচল হয়নি, সেখানে দ্রুত তা সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার সুবিধার্থে বাঁশির সঠিক ব্যবহার এবং স্থানীয় জরুরি যোগাযোগ নম্বর ও ৯৯৯ সম্বলিত ভিজিবল ব্যানার প্রদর্শনের কথা বলা হয়। গুজব বা অপপ্রচারের মাধ্যমে কোনো অশুভ শক্তি যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো ঘটনা ঘটার সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।
উক্ত বিফ্রিং প্যারেড অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ আজিজুল হাকিমসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আনসার ও ভিডিপি সদস্য-সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন।