নারায়ণগঞ্জ  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেসথেসিওলজিস্টের উদ্যোগে

নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব অ্যানেসথেশিয়া দিবস পালিত

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৯:৪২, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৪, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব অ্যানেসথেশিয়া দিবস পালিত

‘অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসাসেবার প্রতিটি ধাপে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব অ্যানেসথেশিয়া দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেসথেসিওলজিস্ট (বিএসএ) নারায়ণগঞ্জ শাখার উদ্যোগে এবং হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সহযোগিতায় এক তাৎপর্যপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎‎বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শহরের চাষাঢ়ার ব্লু পিয়ার রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ‘প্রসুতি অ্যানেসথেশিয়া’ (ঙনংঃবঃৎরপ অহধবংঃযবংরধ) বিষয়ের ওপর মল বৈজ্ঞানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

‎‎আনন্দঘন পরিবেশে কেক কেটে এবং র‌্যাফেল ড্র ও উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সেমিনারের সূচনা ঘটে।
‎‎সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি ডা. মুজিবর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ডা. শাহ কাছেদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, নারায়ণগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ।

‎‎সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে তথ্যবহুল বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া)-এর আইসিইউ মেডিকেল অফিসার ডা. সাইফুল ইসলাম সাকিল।

‎‎তিনি প্রসূতি চিকিৎসায় আধুনিক অ্যানেসথেশিয়ার গুরুত্ব, জটিল অস্ত্রোপচারে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং মা ও নবজাতকের শতভাগ জীবন সুরক্ষায় দক্ষ অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের অপরিহার্য ভূমিকার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

‎‎সভাপতির বক্তব্যে ডা. মুজিবর রহমান বলেন, “অ্যানেসথেশিয়া বা চেতনানাশক চিকিৎসা ছাড়া আধুনিক শল্যচিকিৎসা কল্পনাও করা যায় না। নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে এবং মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে দক্ষ অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের অবদান অপরিসীম।

আগামীর সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের যে ৩১ দফার রূপরেখা উপস্থাপিত হয়েছে, তার ২৬ নম্বর দফায় স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

সেই রূপরেখার আলোকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রতিটি হাসপাতালে আধুনিক অ্যানেসথেশিয়া ও আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চিকিৎসক সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

‎‎সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন, চিকিৎসাসেবায় রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যথামুক্ত চিকিৎসা প্রদানে অ্যানেসথেসিওলজিস্টরা পর্দার আড়ালের নায়ক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। চিকিৎসাসেবার মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে চিকিৎসকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।

‎‎অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. শাহীন মিয়া, ডা. ফয়েজ উদ্দিন, ডা. হাসান আল আরাফাত, ডা. মামুন খান, ডা. আমিনুর রহমানসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

‎‎উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব অ্যানেসথেশিয়া দিবস। ১৮৪৬ সালের এই দিনে প্রথমবারের মতো অস্ত্রোপচারে ইথার ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যথাহীন শল্যচিকিৎসার এক নবযুগের সূচনা হয়েছিল। অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসার অগ্রগতি, রোগীর নিরাপত্তা এবং মানবকল্যাণে অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞদের অনন্য অবদানকে স্মরণ করতেই প্রতিবছর দিবসটি বিশেষভাবে উদযাপন করা হয়।
 

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন