শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৯:৫০, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বরাব ভূমি অফিসটি এখন দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় চিহ্নিত দালাল শাকিল ও তার চাচা হযরত আলীর নেতৃত্বে সক্রিয় এই চক্রটি সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে।
প্রতিবাদ করলে কিংবা দাবিকৃত টাকা না দিলে নামজারি (খারিজ) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আটকে রেখে চরম হয়রানি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ দাবি করেছে।
সরজমিনে এবং সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে শাকিল চক্র জোরপূর্বক কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের ইচ্ছেমতো মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।
জালিয়াতির মাধ্যমে একজনের জমি অন্যজনের নামে ভুয়া খারিজ করিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। শাকিলের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাদিপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
একাধিক সুত্র থেকে জানা গেছে, বিগত দেড় বছর আগেও শাকিল স্থানীয় একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে মাত্র ২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতো। তার বাবাও একটি মিলে কর্মরত ছিলেন, যিনি বর্তমানে কোনো চাকরি করেন না।
কিন্তু মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে শাকিলের জীবনযাত্রায় এসেছে আলাদিনের চেরাগের মতো রূপান্তর। বর্তমানে সে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের আইফোন ব্যবহার করে এবং প্রায় ৩ লাখ টাকা দামের মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে এলাকায় চলাফেলা করে। সম্প্রতি সে তার এক চাচার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকায় জমি ক্রয় করেছে এবং বাড়ির আশেপাশে নামে-বেনামে আরও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কিনেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষকে পর্চা তুলে দেওয়া এবং খাজনা কাটিয়ে দেওয়ার নামে ভুয়া প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করেই শাকিল স্বল্প সময়ে এই সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে।
মাত্র দুই হাজার টাকার চাকরি করা একজন যুবক এত অল্প সময়ে কীভাবে এত বিপুল অঙ্কের সম্পদের মালিক হলো তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাকিলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ভূমি অফিসের নিয়োগকৃত কোনো কর্মী নন, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে সেখানে যান।
তবে প্রতিদিন ভূমি অফিসে তার কী ধরনের ব্যক্তিগত কাজ থাকে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। নিজের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, “আমি এসব অপকর্মের সাথে জড়িত নই।
এদিকে শাকিল চক্রের অপকর্ম ও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে অত্র এলাকার সাধারণ জনগণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। দালালমুক্ত ভূমি অফিস বাস্তবায়নে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
একইসাথে, শাকিলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে তার এই অবৈধ আয়ের উৎসের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।