শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০০:১৩, ২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০০:১৪, ২ এপ্রিল ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় ফয়সাল মাহমুদ (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পর তারই বিরুদ্ধে এবার চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছে চিহ্নিত মাদক কারবারি মোক্তার হোসেন (৩০) এর সহযোগী তার কর্মচারী মো. আকাশ (৩০)।
চাঁদাবাজির মামলায় ভুক্তভোগীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে আর ৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি গোপন থাকলেও সম্প্রতি জানাজানি হয়েছে। এঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সোর্স মুক্তারের অপরাধ কর্মকান্ডের বিষয়ে একাধিকবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও আইনশৃংখলা বাহিনী নিরব থাকায় তাদের ভুমিকাও আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
ভুক্তভোগী যুবক ফয়সাল মাহমুদ পশ্চিম কলাবাগ ওমরপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন র্যাব-পুলিশের সোর্স মাদক করাবারি একাধিক মামলার আসামি নাসিক ১নম্বর ওয়ার্ড এর মিজমিজি পাগলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে পুলিশ বলছে মোক্তার এক সময় মাদকের সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে সে এসবের জড়িত রয়েছে কিনা জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত চলছে। দুই পক্ষকে নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।
মুক্তারের সহযোগী ও তার কর্মচারী আকাশের মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে- আব্দু মান্নান মনা (৬৪), মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রিন্স (৩৫), মোঃ ফয়সাল হোসেন (৩৫), লুৎফর রহমান (৪৫), ফজলুল হক মিলন (৩৬), মোহাম্মদ আলী (৪০), সানা উল্লাহ (৩৪) সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৫/৬জন চিহ্নিত মাদক কারবারি মোক্তারের আইয়ুব নগরের অফিসে এসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
এ সময় মোক্তারকে না পেয়ে তার সহযোগী কর্মচারী আকাশকে মারধর করে আহত করে তার সাথে থাকা ১৫ হাজার টাকা, গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন যাহার মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও অফিসের ক্যাশ বাক্স থেকে ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। মামলায় তাদেরকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন স্থানীয় লোকজনের গ্যাস লাইন বন্ধ করে স্থানীয় লোকজনদের জিম্মি করে, লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার বিষয়টি জানাজনি হওয়ার পর স্থানীয়রা বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, চাঁদার জন্য এরকম হামলা, টাকা ও স্বর্ণ লুটের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এরআগে মুক্তার ও তার লোকজন প্রকাশ্যে ফয়সালকে মারধর করে আহত করে। পরে মুক্তার একটি মানববন্ধন করে গ্যাস বন্ধ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে ওই যুবকসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
কিন্তু মানবববন্ধনে গ্যাস বন্ধ করে চাঁদা আদায় করেছে এমন কোনো ভুক্তভোগী কিম্বা বাড়ির মলিককে অভিযোগ করতে দেখা যায়নি। যারা এ মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করেছে তারা কেউ এখানের স্থানীয় কিম্বা বাড়ির মালিক নয়।
জানাগেছে, গত ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) রাত ১১ টার দিকে নাসিক ৫নং ওয়ার্ড ওমরপুর আইয়ুবনগর এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় ফয়সাল মাহমুদ (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে চিহ্নিত মাদক কারবারি মোক্তার হোসেন (৩০) ও তার অন্যতম সহযোগী মনির ভান্ডারী (৫০) সহ তাদের বাহিনীর সদস্যরা।
হামলায় ফয়সালের হাত ভেঙ্গে যায় ও মাথা ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় স্বজনরা আহত ফয়সাল মাহমুদকে উদ্ধার করে খানপুর ৩শ্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ ঘটনায় ওইদিনই দিবাগত মধ্যরাতে আহত ফয়সালের বাবা আব্দুল মান্নান বাদি হয়ে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, মিজমিজি আল আমিন নগর গ্যাস লাইন এলাকার আবুল কালাম ওরফে ডিম ওয়ালা কালামের ছেলে মাদক সম্্রাট মোক্তার হোসেন (৩০), ওমরপুর পাথুরীপাড়ার মৃত মমিন আলী ভান্ডারীর ছেলে মনির ভান্ডারী (৫০), আলামিন নগর গ্যাস লাইন এলাকার আবু কালামের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (২৫) ও আক্তার হোসেন (৩৫), ওমরপুর আইয়ুব নগরের সোলেমানের ছেলে মাহবুব (৩২), আনোয়ার হোসেন (৩৫) ও রবিউল ইসলাম (৪০), ওমরপুর পাথুরীপাড়ার জুম্মানের ছেলে সোহান (১৯), আইয়ুবনগরের আব্দুল মালেকের ছেলে বাবু (২৮), পশ্চিম কলাবাগের নূর ইসলামের ছেলে বাবু (২৫), পূর্ব কলাবাগের জলু উদ্দিনের ছেলে আকাশ (৩০), ওমরপুর পুকুরপাড়ের নূর উদ্দিন মেম্বারের ছেলে জুয়েল রানা (২৫) ও মজিবুর ড্রাইভারের ছেলে বুইট্রা রনি (২৬)। এছাড়াও আজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ২০ থেকে ২২ জনকে।
এরপর হামলাকারী চিহ্নিত মাদক কারবারি ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঘটনার পরদিন মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
থানায় দায়েরকুত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওমরপুর আইয়ুবনগর এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অন্যের জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে তাদের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করে আসছিল। তাদের সাথে আহত যুবক ফয়সাল ও বাবা আব্দুল মান্নানও যোগ দেন।
এরজের ধরে ঘটনার দিন রাতে ফয়সাল মাহমুদ বাসায় ফেরার পথে আইয়ুবনগর মেইন গেইট এলাকায় তাকে একা পেয়ে মোক্তার হোসেন ও তার সহযোগীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে রামদা ও চাপাতি দিয়ে ফয়সালের মাথা ও হাতে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
এসময় ফয়সাল মাহমুদের চিৎকারে তার পিতা আব্দুল মান্নান এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। তখন আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে গুরুতর আহত ফয়সালকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী আহত ফয়সাল জানান. নাসিক ৫নং ওয়ার্ড ওমরপুর আইয়ুবনগর এলাকায় মাদক সম্রাট মুক্তার তার সহযোগী মনির, মাহবুবসহ আর ১০/১২ জন মাদকের কারবার করছে। এতে এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে যুব সমাজ। আমি বৃহত্তর স্বার্থে স্থানীয় মুরুব্বি, বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও বন্ধুবান্ধবদের বিষয়টি জানাই। পরে তারা জানায় জানায় একদিন সময় করে আমরা ওখানে গিয়ে বসে এর সমাধান করে আসবো।
মাদক সম্রাট মুক্তার যখন জানতে পরে আমি তার মাদকের কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড প্রতিহতের চেষ্টা করছি তখন সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। মঙ্গলবার রাতে আমাকে একা পেয়ে সে ও তার লোকজন আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, আমি জনগনের কাছে, আমি আইনশৃংখলাবাহিনী ও আমাদের এমপি মান্নান সাহেবের কাছে এর বিচার চাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাসিক ৫নং ওয়ার্ড এলাকায় ছিনতাই ও মাদক মামলাসহ নারী কেলেঙ্কারি, ধর্ষণের অভিযোগ, হামলা-ভাংচুর, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপরাধ-অপকর্মের মূল হোতা একাধীক মামলার আসামি মাদক ব্যবসায়ী র্যাব ও ডিবি’র সোর্স পরিচয়দানকারী আওয়ামী দোসর সোর্স মুক্তারের নিয়ন্ত্রনে। কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের কারনে ওমরপুর আইয়ুবনগর এলাকায় সোর্স মোক্তারের মাদকের কারকারসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড বন্ধ করা যাচ্ছেনা।
আইয়ুব নগর এলাকার শাহজাহানের ভবনের নীচ তলায় গাড়ির অফিস ভাড়ার আড়ালে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী মুক্তারের মাদকের কারবার। এরফলে উঠতি বয়সের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতংকিত অবিভাবকরা। শিক্ষাথীসহ যুব সমাজ বিপদগামী পথে ধাবিত হচ্ছে।
সোর্স মুক্তারের মাদক ব্যবসায় ১৫/২০ জনের একটি বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। আর মাদক আাদান-প্রধানের জন্য রয়েছে কম বয়সের একটি বাহীনি। সোর্স মুক্তারের ভাই গত আওয়ামীলীগের সময় কাভার ভ্যানে ইয়াবা চট্রগ্রাম থেকে ঢাকা আসার পথে বিজিবি’র হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটে বের হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, মারামারির ঘটনার পর দুপক্ষের মামলা নেয়া হয়েছে। মামলা করার অধিকার সবার রয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। অপরাধী যেই হউক কেউই ছাড় পাবেনা। নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হবেনা।
র্যাব-পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে স্থানীয়দের আবেদন, বিভিন্ন অপরাধ-অপকর্মের মূল হোতা একাধীক মামলার আসামি মাদক কারবারি র্যাব ও ডিবি’র সোর্স পরিচয়দানকারী আওয়ামী দোসর সোর্স মুক্তারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হউক। এতে এলাকার শান্তি শৃংখলা ফিরে আসবে, বিপদগামী পথ থেকে মুক্তিপাবে যুব সমাজ।