শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২২:৩৪, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৪, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বন্দরে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানবাড়ি এলাকায় স্বামীর মৃত্যুর পর ছোট স্ত্রী ও তাঁর কন্যাদের বসতভিটা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের বিরুদ্ধে। জমি ও ফ্ল্যাট দখলকে কেন্দ্র করে দুই সতীনের পরিবারের এই বিরোধ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, পাঠানবাড়ি এলাকার প্রয়াত মিয়া চান পাঠান জীবিত থাকতেই তাঁর ছোট স্ত্রী সালমা বেগম ও দুই কন্যার নামে ৫ শতক জমি ও একটি ৫ তলা ভবনের ৫টি ফ্ল্যাট সাব-কবলা দলিল মূলে লিখে দেন। ওই সময় মিয়া চান পাঠানের প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা উক্ত সম্পত্তি নিয়ে পরবর্তীতে কোনো বিরোধ করবেন না মর্মে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরও করেছিলেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মিয়া চান পাঠানের মৃত্যুর পর থেকেই প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা উক্ত সম্পত্তি ও ফ্ল্যাট দখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগী সালমা বেগম জানান, বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত বুধবার তাঁরা স্থানীয় ৩ জন সাবেক জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দ্বারস্থ হন। সালিশকারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছোট স্ত্রী ও তাঁর সন্তানদের নিজ জমিতে অবস্থানের সিদ্ধান্ত দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রথম স্ত্রীর মেয়ে বিউটি, ফাতেমা, রেনু ও কাকলী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিউটি ও তাঁর সঙ্গীরা সালমা বেগম ও তাঁর কন্যাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এমনকি সালিশে আসা এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে ভুক্তভোগী পক্ষ জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেও অভিযুক্তরা প্রতিপক্ষকে মারধর অব্যাহত রাখেন।
পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই পক্ষ থেকে দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে সময় পর্যন্ত এলাকা শান্ত রাখা ও কোনো বিরোধে না জড়ানোর শর্তে তাঁদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। ৭ সেপ্টেম্বর থানা কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানা গেছে।