নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি খালের কাঠের সেতু এখন মরণফাঁদ

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৪:১৫, ১ অক্টোবর ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি খালের কাঠের সেতু এখন মরণফাঁদ

সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি মজিববাগ এলাকায় ডিএনডি খালের ওপর নির্মিত জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে কাঠের সেতুটি রূপ নিয়েছে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের চিহ্নে। 

দীর্ঘ দু’বছর ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই সেতুটির অধিকাংশ কাঠের পাটাতন পঁচে-ভেঙে গেছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খালের ওপর দিয়ে চলাচল করছেন শত শত মানুষ, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারী-পুরুষ।

বুধবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনের এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অবিরাম পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। গত এক বছর ধরে সেতুর পূর্বাংশের পাটাতন পুরোপুরি ধসে পড়ায় পরিস্থিতি রূপ নিয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার আমলে মিজমিজি মজিববাগ, আল-আমিন নগর, মিজমিজি পূর্বপাড়া ও কদমতলী উত্তরপাড়ার বাসিন্দাদের যোগাযোগের সুবিধার্থে এই কাঠের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। 

কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার কাজ না করায় সেতুটির অবস্থা এখন শোচনীয়। গত বর্ষাকালে ছয় মাস সেতুটির অধিকাংশ অংশ পানির নিচে তলিয়ে থাকায় কাঠ পঁচে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

ঝুঁকি সত্ত্বেও সেতুটি ব্যবহারের প্রধান কারণ এর ভৌগোলিক গুরুত্ব। সেতুর ঠিক পূর্বপারেই রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং এর ভেতরের ‘বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। যেখানে পড়াশোনা করে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী। প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাত ধরে অভিভাবকেরা চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে পার হচ্ছেন এই নড়বড়ে কাঠের সেতু। 

অন্যদিকে, মাত্র কয়েকশত গজ দূরে আদমজী ইপিজেড থাকায় সকাল ৭টা থেকে ৯টা এবং কাজ শেষে কয়েক হাজার শ্রমিক দ্রুত যাতায়াতের জন্য বাধ্য হয়ে এই বিপদসংকীর্ণ পথটি ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব কামাল ক্ষোভ  প্রকাশ করে বলেন, ডিএনডি খালের এই স্থানে পানির গভীরতা অন্তত ১০ থেকে ১৫ ফুট। যেকোনো মুহূর্তে সেতু ভেঙে পড়লে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। সিটি করপোরেশন নজর না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা স্থানীয়রা চাঁদা তুলে ৭-৮ বার সেতুটি মেরামত করেছি। 

কিন্তু অতিরিক্ত চাপে তা বেশিদিন টেকে না। মিজমিজি মজিববাগ মধ্যবর্তী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি আমিরুল ইসলাম জানান, একাধিকবার নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি।

স্থানীয়দের ক্ষোভ,কর্তৃপক্ষ আশপাশে পাকা সেতু নির্মাণ করলেও সুবিধাজনক এই স্থানে পাকা সেতু তৈরি করেনি, আবার ঝুঁকিপূর্ণ কাঠপুলটি সংস্কারও করছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) সুমন চন্দ্র দেবনাথ জানান, উক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতুটি মেরামতের কোনো পরিকল্পনা সিটি করপোরেশনের নেই। এটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের জন্য স্থানীয়দের পাশের পাকা সেতু ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন