নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ঐতিহ্য রক্ষায় সোনারগাঁ প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির দিনব্যাপী রোড-শো

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৮:৪৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ঐতিহ্য রক্ষায় সোনারগাঁ প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির দিনব্যাপী রোড-শো

সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করি, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ঐক্য গড়ি’ এই বার্তাকে সামনে রেখে প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সচেতনতামূলক দিনব্যাপী রোড-শো। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা প্রত্ননিদর্শনগুলোর সুরক্ষা এবং স্থানীয়দের মধ্যে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনব্যাপী চলা এ কর্মসূচির যাত্রাসূচনা হয় ঐতিহাসিক পানাম নগরী থেকে। পরবর্তীতে কমিটির সদস্য ও সংহতি প্রকাশকারীরা প্রাচীন ঐতিহাসিক ‘গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড’ ধরে সোনারগাঁয়ের একের পর এক প্রত্নস্থল পরিদর্শন করেন। পথিমধ্যে তারা সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তথ্যবহুল লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় করেন।  পরিশেষে পুনরায় পানাম নগরীতে এসে দিনব্যাপী এই রোড-শোর সমাপ্তি ঘটে।

সকালে পানাম নগরীতে ঐতিহ্যানুরাগী এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, স্বনামধন্য লেখক ও গবেষক ড. আকমল হোসেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী পারভীন সুলতানা।

সোনারগাঁয়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি রহমান মুজিব, সাংবাদিক মিজানুর রহমান মামুন এবং সদস্য সচিব লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইন।

এছাড়া ঐতিহ্যপ্রেমী গুণীজনদের মধ্যে কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন ব্যাংকার মতিউর রহমান, সাংবাদিক ফজলে রাব্বী সোহেল, মোকাররম মামুন, গাজী মোবারক, লেখক ও শিক্ষক আসমা আখতারী, লেখক রোকেয়া আক্তার, সংগঠক শংকর প্রকাশ, লেখক মোফাখখার সাগর, সেলিম আহমেদ প্রধান, সাংবাদিক মো. ইমরান হোসেন, শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী শিপন এবং বিল্লাল প্রধানসহ আরও অনেকে।

দিনব্যাপী এই পরিযাত্রায় প্রতিনিধি দলটি সোনারগাঁয়ের সমৃদ্ধ ও সুপ্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী মহজমপুর শাহী জামে মসজিদ, ইউসুফগঞ্জ মসজিদ, ফতেহ শাহ মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী গোয়ালদি শাহী মসজিদ, শাহ আবদুল হামিদ মসজিদ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, জ্যোতিবসুর স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক বাড়ি, কোম্পানি-কা ব্রিজ, পানাম সেতু, নীলকুঠি, প্রাচীন ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ও হাদিস চর্চাকেন্দ্র, শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা ও ইব্রাহিম দানিশমান্দের সমাধি, সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের ঐতিহাসিক সমাধি, ক্রোড়ি বাড়ি, পোদ্দারবাড়ি, সুদৃশ্য বড় সরদারবাড়ি, ছোট সরদারবাড়ি এবং মধ্যযুগীয় নগর স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন পানাম নগরীসহ গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তিগুলো ঘুরে দেখেন।

সংগঠকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোনারগাঁ কেবল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড নয়, এটি বাংলাদেশের হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের আধার। স্থানীয় অধিবাসীদের প্রত্নসম্পদের মূল্যের সাথে পরিচিত করা এবং তাদের রক্ষায় সরাসরি সম্পৃক্ত করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। 

একই সঙ্গে সংবাদ মাধ্যম ও লেখার মাধ্যমে এসব পুরাকীর্তির ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা এবং জরুরি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নের মাধ্যমে অবহেলিত পুরাকীর্তিগুলোর দ্রুত সংস্কারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানান তারা।

 

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন