শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২২:১৮, ১৫ জুলাই ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) আওতায় এনায়েতনগর ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টায় তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে এ দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কাফি বিন কবির স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপিতে এনায়েতনগর ইউনিয়নের কয়েকশ’ বাসিন্দার স্বাক্ষর সংযুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশিষ্ট সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন, বিএনপি নেতা হাজী শহিদুল হক শহীদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, গাবতলী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনামুল ফেরদৌস মনা, কামরুল ইসলাম মুহুরী, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, আলী সরদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অ্যাডভোকেট বশির সরকার, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নাল আবেদীন সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, ওই এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন। তিনি বলেন, ফতুল্লা থানার চারটি ইউনিয়নই নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চল। এখানে কৃষিজমি বলতে গেলে নেই, রয়েছে হাজার হাজার শিল্প-কারখানা। কিন্তু পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তুলনামূলকভাবে এত শিল্প-কারখানা নেই। অথচ ওই এলাকাগুলো অনেক আগেই সিটি করপোরেশনের আওতায় এসেছে। কিন্তু শিল্পসমৃদ্ধ ফতুল্লাকে বাইরে রাখা হয়েছে। এতে ফতুল্লার মানুষ মারাত্মকভাবে উন্নয়নবঞ্চিত হচ্ছে।
বর্তমান সীমানা সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখন আবার শুধু কুতুবপুর ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ এবং ফতুল্লার বাকি তিনটি ইউনিয়নের খণ্ডিত অংশ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি আবারও ফতুল্লার মানুষের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ। আমরা কোনো বিভক্তিকরণ চাই না।
গত বছরও নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং বিভিন্ন ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উঠে আসে। তিনি বলেন, আমরা কোনো আন্দোলনে যেতে চাই না। আমরা বিশ্বাস করি, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক অত্যন্ত বিচক্ষণ একজন কর্মকর্তা। তিনি বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করবেন।
প্রয়োজন হলে সরেজমিনে জরিপ করে বাস্তব অবস্থা যাচাই করতে পারেন। আমরা অবিলম্বে এনায়েতনগরসহ ফতুল্লা থানার চারটি ইউনিয়নকে একযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় হাজী শহিদুল হক শহীদ, সিদ্দিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম মুহুরীসহ অন্যান্য বক্তারাও একই দাবি জানিয়ে বলেন, খণ্ডিতভাবে কোনো ইউনিয়নের অংশবিশেষ নয়, বরং ফতুল্লার চারটি ইউনিয়নকেই একসঙ্গে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা হলে এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক নাগরিক সুবিধা এবং সুষম নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এনায়েতনগরসহ ফতুল্লা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ শিল্পাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানি ও অন্যান্য নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থে এবং টেকসই নগর উন্নয়নের স্বার্থে এনায়েতনগর সহ ফতুল্লার চারটি ইউনিয়নকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।