শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০১:৪৫, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে সালিশের নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তার পিতা ভাটিবন্দর এলাকার মো. শহিদুল্লাহ (৬০)।
অভিযোগের সঙ্গে টাকা পাওনার দুটি নথি সংযুক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে সালিশকারীদের স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং টাকা পাওনার বিষয়ে কথিত স্বীকারোক্তিমূলক ফোন রেকর্ডের কপি।
অভিযোগপত্রে শহিদুল্লাহ উল্লেখ করেন, তাঁর ছেলে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলী, তাঁর সাবেক স্ত্রী মোছা. নূর নাহার শ্রাবণী এবং ইফতি নামের এক ব্যক্তির মধ্যকার একটি বিরোধের ঘটনায় সালিশের আয়োজন করেন ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন।
পিরোজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওই সদস্য ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর বিকেলে তাঁর নিজ বাড়ির তৃতীয় তলায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সালিশ করেন। সালিশ চলাকালে প্রকৃত ঘটনা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ও শাহ আলীর বক্তব্য-প্রমাণ বিবেচনা না করেই তাঁর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গরা বিষয়টি আবগত রয়েছেন এবং ইউপি সদস্য নিজেও ওই টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করা হলেও অভিযুক্ত ইউপি সদস্য টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করছেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সালিশকারীরা উদ্যোগ নিলেও কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ আগস্ট অভিযুক্ত ইউপি সদস্য টাকা ফেরত দেবেন না বলে ফোনে জানান এবং ২০ আগস্ট অভিযোগকারীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
এছাড়া অভিযোগপত্রে ইউপি সদস্য আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিরোধে প্রভাব বিস্তার, প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ এবং অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করানোর মতো আরও কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, তাঁর ছেলের পাওনা ৬ লাখ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের কথিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলী জানান, এ ঘটনায় তিনি পয়োজনীয় সকল ডকুমেন্ট দিয়ে বা প্রমাণপত্র দিয়ে লিগ্যাল নোটিশসহ পাঠিয়েছেন। এরপরও যদি টাকা পরিশোধে গড়িমসি করেন তাহলে তিনি সরাসরি আইনের আশ্রয় নিবেন।