শিরোনাম:
জসিম উদ্দিন
প্রকাশ: ২২:৩৭, ১৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৭, ১৫ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ নগরীর ব্যস্ততম বিবি রোড, ডিআইটি, কালিবাজার ও মীরজুমলা রোড দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে থাকায় পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছিল। ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে প্রায়ই বিশৃঙ্খলা, যানজট এমনকি দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। সরকার পরিবর্তনের পর দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী রূপ পাচ্ছে না।
এমনকি উচ্ছেদ অভিযানে উচ্ছেদ কর্মীদের উপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদিকে উচ্ছেদ অভিযান, অন্যদিকে পুনরায় দখলের প্রবণতায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্টদের দায়সারা অভিযান, রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান থাকলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া কেবল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে টেকসই ফল পাওয়া যাবে না।
ক্ষমতার পালাবদলেও মুক্ত হচ্ছে না ফুটপাত। ফলে দিন দিন শহরে বসবাসের যোগ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে হবে।
তবে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে হলে হকার উচ্ছেদের আগে তাদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও ফুটপাতে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে। এছাড়া আইনি কঠোরতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
যারফলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বারবার ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও আবার দখলদের কবলে চলে যাচ্ছে যা চোর-পুলিশ খেলার পথে পরিস্থিতি তৈরি করছে।
জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান তার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী গত মাসের ১৩ই এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিবি রোড, চাষাড়ার জিয়া হল, ডিআইটি, ২ নং রেল গেইট, কালিবাজার সহ বেশ কিছু পয়েন্টে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষদের সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়েছেন।
এই অভিযানে তিনি সফল ও হয়েছেন। তার সফলতায় পথচারিরা এখন নির্বিগ্নে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারছে। কিন্তু কতিপয় কিছু অসাধু লোকদের যোগসাজসে কিছু কিছু সময় ফুটপাতের জায়গা আগের রূপে ফিরতে চায়।
ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের ঘোষণা কোনো ভাবেই ফুটপাত দখল করা যাবে না। ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে প্রয়োজনে দখল দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও এমপি পুত্র আশা, সাংবাদিক ও সুশিল সমাজ একই সুরে তাল মিলিয়েছেন। তাদের ভাষ্য যে কোন উপায়ে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। কোনভাবেই নগরবাসির চলাচলের জায়গায় ফুটপাতে বসতে দেওয়া যাবে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিবি রোড, কালিবাজার সহ কিছু কিছু ন্থানে হকাররা আগের মতই ফুটপাত দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি তারা ফুটপাত দখল নিতে প্রতিনিয়ত আন্দোলন করেছেন। সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাদের দাবী হয় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন না হয় ফুটপাতে বসতে দেন।
একাধিক সূত্র জানায়, অল্প পুঁজিতে বেশি লাভের আশায় হকাররা বারবার ফুটপাতে ফিরে আসছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় কিছু অসাধু সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে পুলিশের অসাধু সদস্যরা। চাঁদাবাজি ও স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে ফুটপাত পুরোপুরি দখল মুক্ত করা যাচ্ছে না। তাই ফুটপাত দখল মুক্ত করা নাসিক এর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।
হকারদের দাবি বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বারবার তাদের ফুটপাতে ব্যবসা করতে হচ্ছে। ফুটপাতের দোকানটি তাদের পরিবারের জীবিকার একমাত্র উৎস তাদের মধ্যে অনেকেই শহরে এবং গ্রামে একাধিক পরিবারের খরচ বহন করতে হয়। ফলে হঠাৎ করে তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে একটি বড় জনগোষ্ঠীর উপর। আবার ফুটপাত থেকে তাদের সরিয়ে দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন কোন জায়গায় ব্যবসা করা হয় না।
চাষাড়া এলাকার হকার জামাল বলেন, আমরা সমিতি ও ব্যাংক লোন নিয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছি। টাকা-পয়সা থাকলে ফুটপাতে বসতাম না। আমাদের হয় এখানে বসতে দেন নাহয় বিকল্প ব্যবস্থা করে দেন।
অন্যদিকে পথচারি আলমগীর বলেন, ফুটপাতে হাঁটার জায়গা ছিলো না। এখন ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে।
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমি মচকাবো কিন্তু ভাঙ্গবো না। হকার উচ্ছেদ কোন ব্যক্তি স্বার্থে করা হয় নাই। একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে এই হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযান প্রতিনিয়ত চলমান থাকবে। কোন অপশক্তি হকার উচ্ছেদ অভিযান থেকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। আমি জনগণের স্বার্থে এই দায়িত্ব পালন করে আসছি।