শিরোনাম:
প্রকাশ: ০১:১৪, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলার মধ্যেই ১২ ঘন্টার মধ্যে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে পুরো জেলা জুড়ে আতংক সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়াও রয়েছে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও মরদেহ উদ্ধারের একাধিক ঘটনা। সব মিলিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জে সহযোগীদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসীর মৃত্যু, বন্দরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে সন্ত্রাসী হামলায় বৃদ্ধার প্রাণহানি, পরকীয়ার জেরে গৃহবধূকে গলা কেটে ও ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা, ফতুল্লায় পোশাক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ এবং হাত-পা বাঁধা তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনী এলাকায় সহযোগীদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলী (৪০) গুলিবিদ্ধ হন।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। একই রাতে বন্দরের মাহমুদপুর এলাকায় ব্যবসায়িক পাওনা টাকা নিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় মাকসুদা বেগম (৭২) নিহত হন।
এ সময় তাঁর ছেলে রাসেলসহ কয়েকজন আহত হন। তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকায় পরকীয়ার জেরে সুফিয়া আক্তার নিশি (২৪) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে ও ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে তারই স্বামী।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে মনিরকে (২৮) ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে নিজ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলের বিষয়টি জানা গেছে।
সাহেব আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তত ১৫টি মামলা ছিল। হত্যাকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, ব্যবসায়িক পাওনা টাকার বিরোধের জের ও পরকিয়ার জেরে পৃথক দুটি হত্যার ঘটনায় তদস্ত চলছে।
এদিকে, গত ১১ অক্টোবর ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় সাগর হোসেন (৩২) নামের এক পোশাক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে একটি পোশাক কারখানায় আটকে নির্যাতন এবং তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এ অভিযোগের সত্যতা ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
একই দিন ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায় সোনালী মার্কেটসংলগ্ন রাস্তার পাশের ঝোপ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দী এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তাঁর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। এখনো তাঁর পরিচয়, মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এ ছাড়া গত ৮ অক্টোবর মুন্সিগঞ্জের চরমুক্তারপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে শিশির কুমার বীর (২০) নামের নারায়ণগঞ্জের এক নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর কারণ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের কথা।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এসব ঘটনায় অপরাধ প্রতিরোধ, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত তদন্তের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধী চক্র শনাক্ত, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ তদন্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র মূল্যায়নে অপরাধের পরিসংখ্যান, গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার ও মামলা নিষ্পত্তির তথ্য বিশ্লেষণ জরুরি।
অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে মাদক, সন্ত্রাসী ও কিশোরগ্যাং এর বিরুদ্ধে।
আর ওই তিনটি হত্যাকান্ডের বিষয়টি অনাকাঙ্খিত। আপনারা নিজেরাও দেখছেন নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাসীদের তালিকায় শীর্ষ হলেও পুলিশের তৎপরতায় পূর্বের মতো তেমন কোনো অপরাধ কর্মকান্ড ঘটছেনা।
জেলা পুলিশ অরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোন অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না।