শিরোনাম:
ইউশা ইসলাম
প্রকাশ: ১৮:৪৫, ২ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৮, ২ মে ২০২৬
মহান মে দিবসের রক্তঝরা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দাঁড়িয়ে আজ আমাদের বলতে হচ্ছে- বাংলাদেশের শ্রমিকশ্রেণী আজও শোষণ ও বঞ্চনার শৃঙ্খলে বন্দি। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের চেতনা ছিলো শ্রমিকের নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য ও শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। আমরা দেখবো, গত ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৪ বছর পার হলেও, শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা আজও নিশ্চিত হয়নি।
আমরা দেখেছি, সেসময় এতবড় লোমহর্ষক একটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড ঘটার পর তৎকালিন সরকার, প্রাণ দেয়া ১১৭৫ জনকে শুধুমাত্র সংখ্যা হিসবে গণনা করে গেছে। আমরা তখনও বলেছিলাম এই ১১৭৫ সংখ্যা নয়, একেকটি স্বপ্ন একেকটি প্রাণ। মুনাফার লোভে মালিকপক্ষের অবহেলা আর প্রশাসনের উদাসীনতায় সেদিন যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তার বিচার আজও সম্পন্ন হয়নি। আজ প্রশ্ন জাগে- এক যুগ পরেও কি শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে? হলে, আজও কেন দেশের বিভিন্ন কারখানাগুলোতে ক’দিন পর পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বয়লার বিস্ফোরণসহ নানান কাঠামোগত দূর্ঘটনার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের রক্ত ঝরছে?
এখানে প্রশ্ন থেকেই যায়! তারপর যদি বলি শ্রমিকের শ্রমের মর্যাদার কথা আমরা দেখবো, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি!এতে সাধারণ শ্রমিকের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যেখানে এক কেজি চালের দাম ৭০-৮০ টাকা ছাড়িয়ে যায়, সেখানে ১২,৫০০ টাকার ন্যূনতম মজুরি কেবল একটি নিষ্ঠুর অপমান ছাড়া আর কিছুই নয়। অন্যদিকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যায়, যখনই শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তোলে, তখনই রাষ্ট্র ও প্রশাসন তাদের ওপর লাঠি, গুলি আর মামলার খড়গ নামিয়ে আনে। তাহলে শ্রমিকের মর্যাদা আজ কোথায়? এখানেও প্রশ্ন থেকে যায়!
এবার যদি বলি শ্রমিকের সুস্বাস্থের কথা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাবে শ্রমিকদের জীবনকে বিশেষত আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। স্বাস্থ্যখাতে চরম অব্যবস্থাপনা, ভঙ্গুর এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসাব্যবস্থার কারণে শ্রমিক ও তাদের শিশুরা আজ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও টিকার অভাবে শ্রমিকদের হাহাকার বাড়ছে। তাহলে প্রশ্ন শ্রমিকের সুস্বাস্থ্য আসলে কার দায়?
পরিশেষে, বলতে চাই শ্রমিকশ্রেণীর সহায়ক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ এখন সময়ের দাবী। অবিলম্বে, বর্তমান বাজারদর ও মুদ্রাস্ফীতির সাথে সংগতি রেখে অবিলম্বে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত না করে কোনো তথাকথিত উন্নয়নের গল্পই সার্থক হতে পারে না। সে সাথে শ্রমিকের নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য এবং শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার-প্রশাসনকে মনোযোগী হতে হবে। তাহলেই আমরা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসকে গৌরবের সহিত পালন করতে পারবো!
ইউশা ইসলাম
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন-
নারায়ণগঞ্জ জেলা