শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২২:৪৭, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫১, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে নাম না থাকা সত্ত্বেও মাজহারুল ইসলাম জোসেফের নেতৃত্বে সংগঠনটির ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন এবং এসব কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর উপস্থিতি নিয়ে দলীয় অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
জোসেফকে রাজনৈতিকভাবে উৎসাহিত করে মহানগর যুবদলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন গত ১১ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে মাজহারুল ইসলাম জোসেফের নাম না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
এরপরও তাঁর নেতৃত্বে মহানগর যুবদলের ব্যানারে কর্মসূচি পালন এবং যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর অতিথি হিসেবে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, মাজহারুল ইসলাম জোসেফের নেতৃত্বেও মহানগর যুবদলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে জোসেফের আয়োজনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আহ্বায়ক কমিটির নেতারা।
তাঁদের দাবি, মহানগর যুবদলের ঘোষিত কমিটিতে স্থান না পাওয়া একজন ব্যক্তির কর্মসূচিতে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতার অংশগ্রহণ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
যুবদল নেতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কমিটির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পরও জোসেফের কর্মসূচিতে টিপুর অংশগ্রহণ তাঁকে রাজনৈতিকভাবে উৎসাহিত করছে। এতে সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিএনপি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে অনেক নেতাকর্মী মামলা, হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।
এ সময়ে কারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং কারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন, তা নিয়েও দলীয় অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
যুবদলের নেতাদের অভিযোগ, ২০০৮ সালের পর বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে মাজহারুল ইসলাম জোসেফকে দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যায়নি।
তাঁদের দাবি, প্রায় ১২ বছর তাঁকে দলীয় সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ২০২০ সালের পর তাঁকে আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে দেখা যায় বলে তাঁরা দাবি করেন।
তাঁদের আরও অভিযোগ, এরপর থেকে যুবদলের পদ-পদবি পেতে জোসেফ তৎপর হয়ে ওঠেন। বিএনপির হাইকমান্ড থেকে শুরু করে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কমিটিতে স্থান পাওয়ার চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি বলে দাবি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের মমতাজ উদ্দিন মন্তু ও মনিরুল ইসলাম সজল ও মনিরুল ইসলাম সজল এবং সাহেদ আহমেদের কমিটি গঠনের দুই দফা প্রক্রিয়াতেই মাজহারুল জোসেফের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এরপরও যুবদলের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন অব্যাহত রাখায় সংগঠনের ভেতরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, মাজহারুল ইসলাম জোসেফ মহানগর যুবদলের নাম ব্যবহার করে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ড, পোস্টার ও ব্যানার স্থাপন করেছেন। এসব প্রচারণার মাধ্যমে তাঁকে মহানগর যুবদলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এনিয়ে বর্তমান মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।