নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন, পশ্চিম দেওভোগের সড়কটি যেন এক মরণফাঁদ

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৯:২১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন, পশ্চিম দেওভোগের সড়কটি যেন এক মরণফাঁদ

একে তো খানাখন্দে ভরা বেহাল দশা, তার ওপর সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার লাখো মানুষ। সিটি কর্পোরেশন সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে কাজ। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

নগরীর ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঠিক কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন স্থানীয়দের জন্য এক আতঙ্কের নাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি সড়কটি সংস্কারের জন্য দুটি ভেকু (এক্সকাভেটর) নামিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছিল। 

ভেকু দিয়ে আরসিসি ঢালাইয়ের উদ্দেশ্যে পুরো সড়কের পুরোনো আস্তর বা পিচ তুলে ফেলা হয়। কিন্তু মাত্র দুই রাত কাজ চলার পরই তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই মাস হতে চললেও সংস্কার কাজের আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এদিকে, সংস্কারের নামে সড়কের পুরোনো আস্তর তুলে ফেলায় রাস্তাটি এখন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও খানাখন্দে ভরা হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা কিংবা রিকশাভ্যানে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ঝাঁকুনি পোহাতে হচ্ছে। 

প্রায় প্রতিদিনই যানবাহন উল্টে গিয়ে যাত্রী ও চালকদের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলে এই গর্তগুলোতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এছাড়া সড়কের পাশের বেশ কয়েকটি ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় পথচারী ও যানবাহনকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার এই সড়কটি নগরীর অন্যতম একটি ব্যস্ততম পথ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিসিক শিল্পনগরীর লাখো শ্রমিক, নাগবাড়ী ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও সড়কের পাশে অবস্থিত সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শত শত রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু বিকল্প কোনো ভালো রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ পথটি ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগী পথচারী ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তা ভাঙা ছিল, কষ্ট হলেও আমরা চলাচল করতে পেরেছিলাম। কিন্তু সংস্কারের নামে ভেকু দিয়ে রাস্তা খুড়ে ফেলে আমাদের যাতায়াতের শেষ রাস্তাটুকুই আটকে দেওয়া হয়েছে।

প্রায় দুই মাস ধরে রাস্তাটি সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেই, অথচ গর্তের কারণে আমাদের কোমরব্যথা আর দুর্ঘটনা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে যায়, তখন বোঝার উপায় থাকে না কোথায় রাস্তা আর কোথায় ড্রেন। আমরা দ্রুত এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই।”

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, দেওভোগের ওই সড়কটি সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং কাজও শুরু করা হয়েছিল। তবে কিছু প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান করে কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করে তারা জানান, চলতি বছরের মধ্যেই নগরীর বেশিরভাগ সড়ক ও ড্রেন সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

 

 

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন