শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২১:০৩, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:০৩, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
বন্ধ রিচ প্লাস নীটওয়্যার লিমিটেড অবিলম্বে চালু, শ্রমিকদের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বকেয়া মজুরি এবং আইনানুগ সকল পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে শ্রমিকরা।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে রিচ প্লাস নীটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকদের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কারখানার শ্রমিক রাজিয়া। বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহসভাপতি হাসনাত কবির, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং রিচ প্লাস নীটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিক আলমগীর, সাইদুল, ডলি, নুপুরসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম ইসদাইর, টাগারপাড়, পুলিশ লাইন ও ফতুল্লা এলাকায় অবস্থিত রিচ প্লাস নীটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। অথচ গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পূর্বে অবহিত না করেই আকস্মিকভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে বলে শ্রমিকেরা অভিযোগ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই রাতের অন্ধকারে অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শ্রমিকেরা হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকের শ্রমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, উৎপাদন সচল থাকে; অথচ সেই শ্রমিকদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রেখে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা না করে এবং তাঁদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত না করে এভাবে কারখানা বন্ধের ঘটনায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে। কারখানা বন্ধের আগে কোনো পূর্বনোটিশ দেওয়া হয়নি বলে শ্রমিকেরা অভিযোগ করেছেন। এ ধরনের পদক্ষেপ প্রচলিত শ্রম আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, শ্রমিকদের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বকেয়া মজুরি পরিশোধ এখন অত্যন্ত জরুরি। শ্রমিকেরা নিয়মিত শ্রম দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রেখেছেন; তাই তাঁদের অর্জিত মজুরি ও প্রাপ্য আইনানুগ সুবিধা নিশ্চিত করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব। বকেয়া মজুরি ও আইনানুগ পাওনা অনিশ্চিত রেখে শ্রমিকদের দুর্ভোগ বাড়ানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া ও যাতায়াত ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমজীবী মানুষের জীবন এমনিতেই দুর্বিষহ। এর মধ্যে হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার যখন বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলছে, তখন একটি চলমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তাই শ্রমিকদের কর্মসংস্থান রক্ষা, শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সমাবেশে নারায়ণগঞ্জের গাবতলী-মাসদাইর এলাকায় গত জুন মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সেঞ্চুরি গার্মেন্টসের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করার বিষয়টিও তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ। তাঁরা বলেন, কারখানাটি বন্ধ হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বারবার পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। একের পর এক কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদের কর্মহীন করা এবং তাঁদের ন্যায্য পাওনা দীর্ঘদিন আটকে রাখার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও শ্রম প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কারখানা বন্ধের কারণে শ্রমিকেরা শুধু কর্মসংস্থানই হারান না, তাঁদের পরিবারও চরম আর্থিক ও সামাজিক সংকটের মুখে পড়ে। শ্রমিকদের অধিকার উপেক্ষা করে শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। মালিকপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি কারখানা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রম প্রশাসনকে দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সমাবেশ থেকে জোরালো দাবি সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ নিম্নলিখিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানান—
১. বন্ধ রিচ প্লাস নীটওয়্যার লিমিটেড অবিলম্বে চালু করতে হবে।
২. শ্রমিকদের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের সম্পূর্ণ বকেয়া মজুরি অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
৩. প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সকল আইনানুগ পাওনা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. কারখানা বন্ধের ঘটনায় শ্রমিকদের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. বন্ধ সেঞ্চুরি গার্মেন্টসের শ্রমিকদের বকেয়া আইনানুগ পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
৬. শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, জীবিকা ও ন্যায্য অধিকার সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রথমত, রিচ প্লাস নীটওয়্যার লিমিটেড চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের বকেয়া মজুরি ও আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করতে হবে। কারখানা চালু করা সম্ভব না হলে শ্রমিকদের কোনোভাবেই অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা যাবে না; তাঁদের প্রাপ্য সকল আইনানুগ পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
তাঁরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শ্রমিকেরা তাঁদের অধিকার আদায়ে আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন।