শিরোনাম:
পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৪:৩৩, ২৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪০, ২৯ জুন ২০২৬
আমি সাধারণত ফেইসবুকে নিজের নিউজ ছাড়া ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করিনা। আজকে একটি বিষয় নিয়ে লিখতে ভেতর থেকে তাগিদ অনুভব করছি। আমার নিজের এলাকা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্রকে নিয়ে অতি সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট বিষয়ে কিছু কথা না বলে পারছিনা। দেশের শীর্ষ কয়েকটি গণমাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে তাকে নিয়ে।
কিন্তু আমার সন্দেহ গণমাধ্যমের বাড়াবাড়ি রকমের ট্রিটমেন্ট দেখে। প্রথমে যেদিন তাকে আটক কিংবা জিজ্ঞাসাবাদের সংবাদটা শুনি তখন ব্যাপারটাকে অতি স্বাভাবিকই মনে করেছিলাম। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ক্ষমতার দাপট আর প্রসাশনিক বাস্তবতা আর আমার ব্যক্তিগত জানাশোনা থেকে কোন অভিযোগই উড়িয়ে দেয়ার মতো মনে হয়নি।
আর আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনে, কিংবা কোন অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ এমনকি মামলা হলেও এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু মূহুর্তে মূহুর্তে ঘটনার নাটকীয় পরিবর্তন, দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রচার আমার কাছে যথেষ্ট সন্দেহের ।
কারন সিন্ডিকেট নিউজ (সবগুলো মিডিয়ার কনটেন্ট/কনটেক্সট প্রায় একই রকম। কোথাও কোথাও হুবহু একই রকমের তথ্য) একটু আগ্রহী করে তুললো আমাকে। কারন আমার নিজের এলাকার ঘটনা বলে কথা।
তাছাড়া আমি যেহেতু এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবেই কাজ করছি সেহেতু ঘটনার দিন অথবা পরের দিনের পত্রিকাগুলোর কাভারেজ/ ট্রিটমেন্ট স্বাভাবিক, এটা কোন দ্বিধা নেই। আমাদের দেশীয় মিডিয়ার ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ইস্যুটা দুদিনের মধ্যেই হারিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সজীবের ক্ষেত্রে তা ঘটলো না।
ঘটনার পরপরই আলোচনাটা প্রথম সারির কয়েকটি মিডিয়া জিইয়ে রাখলে, শুধু যে জিইয়ে রাখলেন তাই নয় তারা বরং ফলোআপের উপর ফলোআপ করছেন। যেমন প্রথম আটক, তারপর ছেড়ে দেয়া, এরপর তার আমলনামা নিয়ে পপুলিস্ট মার্কা গল্প দিয়ে দীর্ঘ ও অনুমান নির্ভর অনুসন্ধান ছাড়া ( উপযুক্ত প্রমাণ ও জাস্টিফিকেশন ছাড়া) একের পর এক পত্রিকা, অনলাইনে, ডিজিটাল কন্টেন্ট, পডকাস্টসহ সব মাধ্যমে সংবাদ প্রচার করেই যাচ্ছে। এত এত আয়োজন দেখেই সন্দেহটা বেশি হচ্ছে। কারন
এক জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা এতোটা গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ উপাদান হয়ে ওঠা অন্তত আমার জার্নালিস্টিক সেন্সে প্রশ্নবিদ্ধ। এরচেয়েও বেশি সন্দেহ হলো বিশেষকরে অভিযোগ উঠার সাথে সাথেই তার দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ। কারন বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠন কিংবা সমমনা ২০ দলীয় জোটের রাজনীতি অন্দর মহল থেকে দেখে আসতেছি প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময়। কোন ঘটনার এত তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপ নেয়া।
**এখানে একটা ক্লারিফিকেশন দরকার, অনেকে আবার আমার জার্নালিস্টিক সেন্স বা ব্যক্তি প্রীতির অভিযোগ আনতে পারেন, তাদের উদ্দেশ্য একটি কথা । আমাকে যারা ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠভাবে মিশেন তারা জানেন, সোনারগাঁওয়ে বিএনপির রাজনীতিতে মান্নান সাহেব কখনোই আমার পছন্দের ব্যক্তি নন, এমনকি তার ছেলেও নয়। কিন্তু আমার নিজের পছন্দের লোক নয় বলেইতো তাদের বিশেদগার করতে পারিনা।
তাদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তাদের অবদান, লড়াই সংগ্রাম কে অস্বীকার করা যাবে না। বিএনপির রাজনীতিতে তাদের অবদান অনেক।
বরং সাম্প্রতিক মুভমেন্ট আলোচনা সমালোচনা আমার কাছে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলেই মনে হচ্ছে।
একটা ঘটনা বলি, জাতীয় নির্বাচনের বহু আগে, তারেক রহমান দেশে আসার আগে এমনকি বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ারও আগে এমপি মনোনয়ন নিয়ে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই চলছে, বিক্ষিপ্তভাবে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হচ্ছে গুলশান কার্যালয়ে। সেদিন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য স্থায়ী কমিটির মোস্ট সিনিয়র এক নেতার বাসায় ঘন্টাখানেকেরও বেশি সময় আড্ডা হয়।
সেখানে আলোচনার একফাকে তিনি জানতে চান, তোমার এলাকার খবর কী? নেতাদের কার কী অবস্থা ? আমি বলেছিলাম, যদি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ক্লীন ইমেজ খোঁজেন তাহলে রেজাউল করিম কিংবা আপেল সাহেব অথবা ইমতিয়াজ বকুল আছে। তবে প্রথম দুইজনের সমস্যা হলো তারা রাজপথে সক্রিয় ছিলোনা।
আর যদি রাজপথের আন্দোলনে কিংবা ১৫ বছরের ত্যাগ, সংগঠন ধরে রাখাকে বিবেচনায় নেন তাহলে আজহারুল ইসলাম মান্নান এর বিকল্প নেই। তবে এলাকায় তার কোরামের কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, তার লোকদের চাঁদাবাজির কারণে দলের দূর্নাম হয়ে গেছে। তখন তিনি (স্থায়ী কমিটির সদস্য) বললেন অভিযোগ কম বেশি সবার নামেই আছে, অভিযোগ ছাড়া কে আছে?
কিন্তু যারা দলের দূর্দিনে রাজপথে ছিলো নির্যাতন সহ্য করেছে তাদেরত মূল্যায়ন করা দরকার। ওনার এই কথা শোনার পর আমার বুঝতে বাকি রইলো না দলের চয়েস কী ?
যাই হোক বেশি বড় লেখা পড়তেও বিরক্তির কারন। মান্নান সাহেবকে অপছন্দের বড় কারন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বক্তৃতায় গুছিয়ে কথা বলতে না পাড়া। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে, একজন সংগঠক হিসেবে তিনি অসাধারণ। কর্মী বান্ধব।
তার কাছের নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে (যেহেতু আমার কখনো তার সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়নি) তিনি উপরে উপরে বেশ রাগী ভাব দেখালেও ভেতরটা সরল, শিশুদের মতো । একবার রাগ করলেও কিছুক্ষণ পরেই সবকিছু ভুলে যান। কর্মীদের বিপদে খোঁজ খবর রাখেন।
এটাই তার রাজনৈতিক সৌন্দর্য। এটাই তার কর্মী ধরে রাখার কৌশল। তাই আমি পছন্দ করি বা না করি সোনারগাঁও সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ তাকে ভোট দিয়ে মহান জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছে। আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজকে উপেক্ষা করে। আজকে সেই এমপিকে নিয়ে সারা দেশে আলোচনা হচ্ছে। পরিচিতরা জানতে চায় কী হয়েছে? নেপথ্যের ঘটনা কী?
আমি তাদের বলি আমার সন্দেহের কথা, রাজনীতির জটিল কুটিল ষড়যন্ত্র ও মিডিয়া ট্রায়ালের কথা। কারন মিডিয়ায় যেভাবে ফ্রেমিং করা হচ্ছে, চাঁদাবাজ, জুট ও বালু সন্ত্রাসী বানানো হচ্ছে। একচেটিয়া ভাবে তাদেরকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা হচ্ছে।
প্রকৃত সত্য কি এরকমই? নাকি স্রেফ রাজনৈতিক চক্রান্ত। দীর্ঘদিন রাজপথে লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়ার প্রচেষ্টা??
এটা সত্যি যে সোনারগাঁও সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ ভালো নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয়, কিন্তু এর পেছনে কে? বা কারা? সব চাঁদাবাজি কি এমপি পুত্র একাই করেন? তাকে দমন করলেই কি নারায়ণগঞ্জ চাঁদাবাজ নির্মূল হবে? উত্তর হবে না।
তারচেয়ে বরং মনে হয় , এইভাবে এককভাবে দোষারোপের রাজনীতি করে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে।
----- সেই জন্য সজীবের বিরুদ্ধে পত্রিকায় ওঠা অভিযোগুলোর পোস্ট মর্টেম করা জরুরি বলে মনে করি।
----চলুন পত্রিকায় আসা অভিযোগুলো রিভিল করি.....
অভিযোগ আনা হয়েছে ৫ আগস্টের পর তিন দিন মেঘনা টোল প্লাজার নিয়ন্ত্রণ ছিলো এমপি পুত্র সজীবের কছে। সেখান ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। ঘটনা কি আসলেই সেরকম ছিলো? ৫ তারিখের পর যখন সারাদেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শূন্য হয়ে পরে তখন সারাদেশেই থানাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সাধারণ ছাত্রজনতা নিরাপত্তা পাহাড়া বসায়।
পাড়া মহল্লায় মানুষ রাত জেগে পালা করে পাহারা দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন যাতে চুরি ডাকাতি না হয়। এই গল্প জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবের। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও একটা দেশে বড় মাত্রার অপরাধ মুলক কর্মকান্ড অনেক কম হয়েছে।
মেঘনা সেতুর বিষয়টিও এর বাইরে কিছু নয়। তবুও পত্রিকার অভিযোগ যদি সত্য ধরে নেই, তাহলেও বলতে হয় ঐ ৩দিন কি রাস্তায় এত পরিমান গাড়ি চলেছে? যে দৈনিক কোটি টাকার উপর টোল আদায় হয়েছে।
অথবা যদি ধরে নেই, কম বেশি যাই টোল আদায় হয়েছে, সে বিষয়ে তৎকালীন সরকার কিংবা সেতু কর্তৃপক্ষ টোলের টাকার হিসাব চেয়েছিলো কিনা? কোন অভিযোগ করেছিলেন কিনা? নাকি সবই আমাদের বাড়িয়ে বলা গল্প!
--- মান্নান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে বড় যে অভিযোগ যা হলো সিদ্ধিরগঞ্জের ইপিজেডে সব কারখানা জুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, কিন্তু বাস্তবতা বরং উল্টো। সেখানকার জুট ব্যবসায়ী কিংবা কারখানা মালিকদের কাছে খোঁজ নিলেই জানা যাবে আদমজী ইপিজেডে মহানগর যুবদল, ছাত্রদল ও পতিত আওয়ামী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই সেই ব্যবসা চলছে দেদারছে।
বরং তাদের মদত দিচ্ছে অন্য উপজেলার অন্য আসনের প্রভাবশালী এমপি। বরং ইপিজেডে ব্যবসায় সমতা আনতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের যুক্ত করতে এবং জুট সন্ত্রাস বন্ধে হুঁশিয়ারি দেয়ার পরদিনই আটক হয়েছেন সজীব। এ আসল সত্যিটা বলার কেউ নেই।
--- এরপর আসি আরেক অভিযোগ মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলনে বিআইডব্লিউটিএ থেকে অনুমোদন যিনি এনেছেন তিনি একজন প্রবাসী।বিএনপি সমর্থক। বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে কাজটি বাগিয়ে এনেছেন তিনি। এক্ষেত্রে এমপি বা এমপিপুত্রের কোন হাত নেই।
তবে যিনি কাজ এনেছেন তার যেহেতু এই কাজের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নাই, (যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বৈধভাবে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে তারাও কাজটি করছেনা।) তাই মধ্যস্বত্বভোগী প্রবাসি ব্যবসায়ী এমন লোকাল মাসলম্যান খুঁজছিলেন যারা কাজটি সম্পন্ন করে দিতে পারবে। সেখানে ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন এমপি সাহেবের আশির্বাদপুষ্ট সাবেক ডিগবাজি খাওয়া এক নেতা।
যিনি হাতপাখা প্রতীকের সাবেক চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন। এখন দলের সুসময়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে। তো এই পল্টি নেতা দিন রাত মহাসমারোহে মেঘনা নদী লুট করছে।
এরপর আসি দেশের বৃহত্তম একটি শিল্প গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির অভিযোগ বিষয়ে...বিগত আওয়ামী লীগ আমলে এই শিল্প গোষ্ঠী সোনারগাঁওয়ের নদী খাল গিলে খেয়েছে। বহু কৃষকের শত শত বিঘা জমি অবৈধভাবে জবর দখল করেছে। সেসব ব্যবসা এখনো ফ্যাসিবাদী সরকারের লোকেরাই নিয়ন্ত্রণ করছে।
-- এরপর আসি অবৈধ চুনা ফ্যাক্টরির কথায়, গত একবছরে সোনারগাঁওয়ে অন্তত ডজন খানেক চুনা কারখানা গড়ে উঠেছে। যদিও এসব চুনা কারাখানার বেশিরভাগের সঙ্গেই জড়িত বিএনপির কিছু স্থানীয় নেতা-কর্মী। তবে আমি হলফ করে বলতে পারি এগুলোর সঙ্গে এমপি বা তার ছেলের হাত নেই। কিন্তু যারাই এগুলো অবৈধ কারখানাগুলো চালাচ্ছেন তারা সবাই বিএনপির নাম ভাঙিয়েই এই অপকর্ম সুযোগ নিচ্ছে।
তো আমার এই দীর্ঘ লেখা পড়ার পর কারো কারো মনে হতে পারে আমি এমপি ও ছায়া এমপিকে দায়মুক্তি দিচ্ছি। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে কী তারা নিষ্পাপ? দুধে ধোয়া তুলসী পাতা? উত্তর হলো বিষয়টি মোটেও তা নয়। সোনারগাঁও সিদ্ধিরগঞ্জের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই অঞ্চলের প্রত্যেকটি ভালো মন্দের দায় তাদের।
তারা এই দায় এড়াতে পারেন না। তাদের দায় হলো, তারা এইসব দূর্বৃত্তদের শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। আত্বীয়, বন্ধু, পার্টনার নানা নামে আসা এসব দুধের মাছিদের শক্ত গলায় ধমক দিতে পারেননি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নিতে পারেননি।
বিনিময়ে যা হওয়ার তাই হয়েছে। তাদের সব অপরাধের দায় নিয়ে এখন রাজনীতি থেকেই মাইনাস করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এমপি পরিবারের। অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী, কারন দলের দুঃসময়ের কর্মীদের ভুলে গিয়ে নতুন গজিয়ে ওঠা বন্ধুদের তাদের আশেপাশে স্থান দিচ্ছেন।
কাদেরকে বন্ধু বানাচ্ছেন? যারা পাড়া মহল্লা, গলির ফুটপাত থেকে শুরু করে জলে-স্থলে সবখানে রাহাজানি করছে। খোঁজ নিয়ে দেখেন, প্রতিটা ইউনিয়নে চাঁদাবাজি, রাহাজানি, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, সালিশী বৈঠকের নামে এলাকার মোড়ল হয়ে উঠেছে নির্দিষ্ট কয়েকজন। যাদের পকেটে একসময় রিকসা ভাড়া থাকতোনা, তাদের হাতে এখন একাধিক আইফোন, কারো কারো বাড়িতে টিনের চালের ঘর ভেঙে আলিশান বিল্ডিং হচ্ছে।
দিন শেষে এই ছদ্মবেশী সুসময়ের বন্ধুরাই আপনাদেরকে ডুবাবে। যেমনটি করেছিল ১/১১ এর সময় তারেক রহমানকে। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে যার প্রতিদান দিতে হয়েছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের সীমাহীন জুলুম, নির্যাতন এমনকি জীবন দিয়ে।
সুতরাং এখনো সময় আছে সাবধান হোন। বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হোন। দুঃসময়ের কর্মীদের মূল্যায়ন করুন। হাইব্রিডদের থেকে দুরে থাকুন।
লেখক :
আকতার হাবিব
সাংবাদিক ও কলামিস্ট