নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

হাতেমকে ফ্যাসিষ্টের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করায়

ফতুল্লায় এমপি আল আমিন অবরুদ্ধ, ২ ঘণ্টা পর উদ্ধার

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২২:২৭, ৩ মার্চ ২০২৬

ফতুল্লায় এমপি আল আমিন অবরুদ্ধ, ২ ঘণ্টা পর উদ্ধার

দেশের নীট ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ নীটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ফ্যাসিষ্টের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করায় নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।

ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা অনুষ্ঠানস্থল ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং এমপিকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানান, জামায়াতের ওই ইফতার অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন উভয়ই আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তবে মোহাম্মদ হাতেমকে স্টেজে দেখে ক্ষুব্ধ হন এমপি আল আমিন এবং তিনি মঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে নিজের বক্তব্যে তিনি হাতেমকে ফ্যাসিষ্টের দোসর হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘আমি ফ্যাসিষ্টের দোসরের সাথে এক মঞ্চে বসবো না।’

এমপির এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পরপরই উপস্থিত ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। মোহাম্মদ হাতেম অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করলে তার সমর্থনে ব্যবসায়ী ও অনুসারীরা অনুষ্ঠানস্থল ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা এমপি আল আমিনের এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। এবং তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে এমপিকে উদ্ধার করে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, মোহাম্মদ হাতেম কোনো চাটুকার নেতা নন, তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের ভোটে বিকেএমইএর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা ব্যবসায়ীদের প্রধান নেতা। তাকে ফ্যাসিষ্ট আখ্যা দিয়ে অপমান করা মানে পুরো ব্যবসায়ী সমাজকে অপমান করা। আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেব না।

মুঠোফোনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, তারা পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় ছিলেন। সেখানেই জামায়ত আয়োজিত ইফতারের অনুষ্ঠানটি চলছিল। প্রায় ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় আমি ভবন থেকে বের হয়ে আসি।

সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি না। পুলিশ আছে, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও জানিয়েছেন যে তারা ঘটনাস্থলে আসছেন।’

নারায়ণগঞ্জের বিসিক এলাকার একাধিক শিল্পমালিক জানান, মূলত হাতেম ভাইয়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়ীবান্ধব ভূমিকার কারণেই আমরা প্রতিকূল পরিবেশেও নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছি। আজ তিনি না থাকলে আমরা অনেক আগেই আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গাজীপুর বা অন্য জেলায় স্থানান্তর করে ফেলতাম। আমাদের অভিভাবককে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সাহস এমপি কোথা থেকে পান?

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ কাম্য নয়। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

ফতুল্লা থানার পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২ ঘন্টার পর এমপি আল আমিনকে উদ্ধার করে।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অতিরিক্ত ফোর্স পাঠিয়ে এমপিকে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন