নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

কাঁচপুরে সালাউদ্দিন সালুর নেতৃত্বে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২২:৫৬, ৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০৩, ৫ মার্চ ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সালুর নেতৃত্বে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং জেলায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে দোকান বসানোর জন্য প্রতিদিন ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। ওই চাঁদা সালাউদ্দিন সালুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মাসুম নামে এক ব্যক্তি আদায় করে থাকেন।

(ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন)

ভিডিওতে ওই ব্যবসায়ী আরও বলেন, শুধু তার কাছ থেকেই নয়, কাঁচপুর এলাকার ফুটপাতের আশপাশের প্রায় সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই প্রতিদিন এই চাঁদা আদায় করা হয়।

 এলাকাবাসীর অভিযোগ, সালাউদ্দিন সালুর প্রভাব খাটিয়েই তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘোষিত দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সঙ্গে এই ঘটনার সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যেও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছেন। কিন্তু সেই নীতিকে অমান্য করে স্থানীয়ভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় দলটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন স্পষ্টভাবে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তখন একজন জেলা পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সালাউদ্দিন সালুর সমালোচনা করে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দলে রাখলে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভিডিওতে যে অভিযোগ উঠে এসেছে তা সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

তবে এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন সালুর বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-২সমালোচনা চলতে থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সালাউদ্দিন সালুকে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবিও জোরালো হতে পারে।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন