শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২১:৪৮, ২২ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪৯, ২২ মার্চ ২০২৬
সোনারগাঁ ফারহানা (২৬) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২২ মার্চ) উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি সে আত্নহত্যা করেছে। স্থানীয়দের দাবি স্বামীর পরকীয়ায় কলহের জেরে ফারহানা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করে।
এদিকে, পুলিশ আসার আগেই শাশুড়ি ঝুলন্ত মরদেহ নামিয়ে ফেলেন। নিহত ফারহানা মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের কালাচানের মেয়ে এবং সাগর মিয়ার স্ত্রী। সাগর মিয়া পেশায় কাপড়ের দোকানের কর্মচারী।
তাদের দুটি সন্তান রয়েছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। এ ঘটনার পর থেকে সাগর পলাতক রয়েছেন। ফারহানার মৃত্যুর খবর পেয়ে তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয়রা জানায়, সাগর মিয়ার পরকীয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।
পরদিন সকালে সাগর মিয়া কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তার মা তাকে জিজ্ঞেস করেন,আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন, এত সকালে কোথায় যাচ্ছিস? বউকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাবি না?
সাগর বলেন, তার জরুরি কাজ রয়েছে। এরপর ফারহানা ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে ছোট সন্তানের কান্নার শব্দ শুনে পাশের ভাড়াটিয়ারা সন্দেহ করেন।
পরে পাশের ভাড়াটিয়া ছগিরের সহযোগিতায় ফারহানার শাশুড়ি দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে তাকে ঘরের বারান্দায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় শাশুড়ি মরদেহ নামিয়ে ফেলেন।
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই মরদেহ নামানোকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এঘটনায় ফারহানার বাবা কালাচাঁন সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তকালে নিহতের বোন আনিকা অভিযোগ করেন, সাগর মিয়া প্রায়ই টাকার জন্য ফারহানাকে মারধর করতেন। তিনি জানান, ঈদের তিন দিন আগে তিনি ২০ হাজার টাকা সাগর মিয়ার হাতে তুলে দেন। এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, সাগর মিয়া নারায়ণগঞ্জ এলাকায় পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনার পর থেকে ফারহানার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সাগর মিয়া নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। যদি এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।