শিরোনাম:
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :
প্রকাশ: ২১:৪৯, ২৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:০৬, ২৫ মার্চ ২০২৬
২৫শে মার্চ কালরাত ও জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ফতুল্লায় এক আবেগঘন পরিবেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন,দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) পঞ্চবটিস্থ যমুনা অয়েল কোম্পানির জেটি সংলগ্ন বধ্যভূমিতে এই দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন।
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ নয় মাস দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে এই যমুনা অয়েল কোম্পানির জেটিতে নির্মম নির্যাতন চালাত পাক হানাদার বাহিনী। অসংখ্য নাম না জানা বীর সেনানীকে এখানে হত্যা করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। সেই সব বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতেই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। এ সময় বক্তারা ইতিহাসের সেই নৃশংসতা স্মরণ সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীন দেশ পেয়েছি, তাদের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পঞ্চবটির এই বধ্যভূমি আমাদের ত্যাগের ইতিহাসের এক সাক্ষী। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার মূল্য কতটা গভীর এবং বেদনাবিধুর।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চ কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির জাতিসত্তার ইতিহাসে এক অমোচনীয় অধ্যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরা এবং গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হতে পারে এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার প্রকৃত অঙ্গীকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী, নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে বিশেষ দোয়া মাহফিলে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে সারিবদ্ধভাবে মোনাজাতে অংশ নেন, যা এক অশ্রুকন্ঠে নীরবতা ও শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
পঞ্চবটির এই বধ্যভূমি সংরক্ষণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।