নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

স্পট আদমজী সোনামিয়া বাজার

ওসমান দোসর জামান স্বর্ণকারের ছেলে জনির মাদক ব্যবসায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২১:৫৫, ২৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৬, ২৯ মার্চ ২০২৬

ওসমান দোসর জামান স্বর্ণকারের ছেলে জনির মাদক ব্যবসায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী সোনামিয়া বাজারে স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে ওমর ফারুক জনির মাদক ব্যবসা আবারও জমজমাট। পুলিশের হাতে একাধীকবার গ্রেপ্তার হওয়ার পরও এ পথ থেকে এক বিন্দু পরিমানও সরে আসেননি তিনি। বরং জেল থেকে বেড়িয়ে আরও বড় পরিসরে তাকে এ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতে দেখা গেছে। 

বর্তমানে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানাগেছে। বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনার কারণে দিন দিন সোনামিয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অনেকটাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত চিহ্নিত এ মাদক ব্যবসায়ীর গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, সোনামিয়া বাজারে জামান জুয়েলার্স নামক স্বর্ণ দোকানের আড়ালে দীর্ঘ বহুবছর ধরে জনি মাদক ব্যবসা করে আসছে। ২০২১ সালে ১৫ এপ্রিল ডিবির অভিযানে ৭৯৬ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করা হয় জনিসহ তার সহযোগীদের। কিন্তু কিছুদিন জেল খেটে বেড়িয়ে আবারও শুরু করে মাদক ব্যবসা।

বর্তমানে সহযোগী সোহেলকে নিয়ে মাদক ব্যবসার পুরো নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেছেন তিনি। ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদকের হোম ডেলিভারিও দিচ্ছেন জনি-এমনটাই অভিযোগ করতে দেখা গেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ওমর ফারুক জনি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসায়ই তার প্রধান। তার বাবা আসাদুজ্জামানও নানা বিতর্কীত কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। আসাদুজ্জামান ওরফে জামান স্বর্ণকার বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলের পুরোটা সময় সাবেক সাংসদ শামীম ওসানের সহযোগী হয়ে কাজ করেছেন।

তিনি আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। যারফলে শামীম ওসমানের প্রভাব খাটিয়ে নানা বিতর্কীত কাজ করেও তিনি সোনামিয়া বাজারে বহাল তবিয়তে ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২০২৫ সালে ৩০ জুলাই চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে জামান জুয়েলার্সের ম্যানেজার নাজমুল ইসলাকে গ্রেপ্তার করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রায় পৌণে ১৩ ভরি (১২.৭৫ ভরি) স্বর্ণ, ২২ ভরি রূপা ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ও চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে ম্যানেজার নাজমুলসহ ৩ জনকে গ্রোর প্তরা হয়।

পরে নাজমুল পুলিশের কাছে চোরাই স্বর্ণ কেনার কথা শিকার করেন। কিন্তু এত বড় ঘটনার পরও কোন এক রহস্যজনক কারণে বেঁচে যান জামান স্বর্ণকার।

অন্যদিকে পিতা আসাদুজ্জামান ওরফে জামান স্বর্ণকারের প্রভাব খাটিয়ে একেবারেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ওমর ফারুক জনি। তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় গড়ে তোলেন বিশাল মাদকের নেটওয়ার্ক। বার বার আইনশৃঙ্খলাবাহীনির হাতে গ্রেপ্তার হলেও আইনের ফাঁক-ফুতুর দিয়ে দ্রুতই জেল থেকে বেড়িয়ে আসেন তিনি এবং আবারও পুরদমে শুরু করেন মাদক ব্যবসা। 

বর্তমানে তার এ মাদক ব্যবসা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সিদ্ধিরগঞ্জসহ আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মাদক সেবীরা তার কাছে মাদক ক্রয় করতে ছুটে আসেন। শুধু তাই নয়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সহযোগী সোহেলকে দিয়ে মাদকের হোম ডেলিভারিও দিয়ে থাকেন তিনি।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সোনামিয়া বাজারের কয়েকজন স্বর্ণব্যবসায়ী জানান, জামান জুয়েলার্সের মালিক জামান স্বর্ণকারের মূল ব্যবসা সুদের। বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে সুদে টাকা দেওয়া, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করে লুটে আনা স্বর্ণালংকার কম দামে কিনেন তিনি। তাছাড়া বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার সময় তিনি ভেজাল স্বর্ণ দেন। 

তার বড় ছেলে ছেলে জনি স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাকে ফেন্সিডিলসহ একাধিকবার পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। কিন্তু তবুও বন্ধ হয়নি তার মাদক ব্যবসা। বর্তমানে তার এই মাদকের ভয়াবহতার কারণে সোনামিয়া বাজারের সকল ব্যবসায়ীসহ পুরো এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এবং সেই সাথে বাজারের পরিবেশও চরমভাবে নষ্ট হচ্ছে। 

তাই আমরা যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষাসহ বাজারের পরিবেশ সমুন্নত রাখতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জনি ও তার সকল সহযোগীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশসহ জেলা পুলিশ সুপারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন