নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মিতালী মার্কেটে সেলাই কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগ

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২২:৪৮, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মিতালী মার্কেটে সেলাই কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগ

সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার মিতালী মার্কেটে বিপ্লব শেখ (২৭) নামে এক সেলাই কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। সেই সাথে পুলিশের অসহযোগীতা, অশোভন আচরণ ও ঘটনার ২৪ ঘন্টা পার হলেও মামলা না নেয়ায় তারা পুলিশের ভুমিকাকে রহস্যজনক মনে করছেন। মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মামলা গ্রহণ করবেন ওসির এমন বক্তব্যে নিহতের স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কারখানার মালিক ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন মেলায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন নিহতের স্বজনরা। 

মিতালী মার্কেটের ৫নং ভবনের চারতলায় আসাদুজ্জামান আসাদের মালিকানাধীন একটি কারখানায় সেলাই কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন নিহত বিপ্লব শেখ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ওই কারখানা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  নিহত বিপ্লব শেখ মুন্সিগঞ্জ সদর থানার রনছ এলাকার খোরশেদ শেখের ছেলে। তিনি গত আট বছর ধরে সিদ্ধিরগঞ্জে বসবাস করতেন। 

নিহতের বড় বোন সীমা আক্তার জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও মার্কেট সভাপতি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিচ্ছেন। শুরুতে তারা জানান বিপ্লব স্ট্রোকে মারা গেছেন। পরবর্তীতে আবার বলা হয় তিনি শৌচাগারে (ওয়াশরুমে) পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।

সীমা আক্তার আরও বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও মার্কেট সভাপতি তড়িঘড়ি করে আমার ভাইয়ের লাশটি আমাদের হাতে তুলে দিয়ে বিদায় করে দেন। আমরা মরদেহ গ্রামে নিয়ে গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। তখনই আমাদের সন্দেহ হয় যে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই কারখানার কাটিং মাস্টার শহীদুল্লাহর আচরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক। তিনি একেকবার একেক ধরনের বয়ান দিচ্ছেন। এছাড়া ভোর ৬টার সময় বিপ্লবকে কেন তড়িঘড়ি করে কারখানায় ডেকে আনা হয়েছিল, সেই প্রশ্নেরও কোনো সদুত্তর মিলছে না। পরিবারটি প্রথমে তাদের স্থানীয় থানায় গেলে সেখান থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়। 

তারা আরও জানান, থানায় মামলা করতে গেলে সিদ্ধিরগঞ্জে থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক নানা ব্যস্ততা দেখিয়ে ঘণ্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রেখেছেন। মামলার বিষয়ে কথা বললে তাদের সাথে অশোভন করেন। মামলা একমাস পরও নেয়া যাবে বলে জানান। পরে শুক্রবার দুপুরে তারা হতাশ হয়ে চলে যান। 

এদিকে বৃহস্পতিবার দিনভর এ মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু বললেও শুক্রবার এ বিষয়ে ভিন্ন মতামত দিয়েছেন কারখানার মালিক ও কর্মচারীরা।  এরফলে এ মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করছেন নিহতদের স্বজনদের। সেই সাথে পুলিশের ভুমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

কারখানায় কর্মরত কাটিং মাস্টার শহিদুল বলেন, আমি ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বিপ্লব কারখানাতেই ছিল। নামাজ পরে আসার সময় দেখে ভবনের নিচে সিঁড়ির পাশে আবর্জনা পড়ে আছে বিপ্লব। তখন সে জিবিত ছিল। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কারখানা মালিক আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে এসে লাশ বহন করার খরচ দিয়ে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে তার গ্রামের বাড়িতে যাই। সেখানে যাওযার পর লাশে আঘাতের চিহ্ন দেখে হইছই শুরু হয়। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা আমাকে ঘিরে ধরেন। তারা স্থানীয় থানা পুলিশকে খবর দিলে সেখানকার পুলিশ বিস্তারিত শোনে লাশ ঘটনাস্থল সিদ্ধিরগঞ্জে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। তখন লাশ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নিয়ে আসা হয়।  

মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, মার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে গত মাসের ২৯ তারিখ দোকাদার মালিক সমিতির লোকজনের বিরুদ্ধে অন্দোলন হয়েছিল। সে অন্দোলনে অংশ নিয়ে ছিলেন বিপ্লব। এতে দোকানদার মালিক সমিতির সভাপতি  জামান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ফারুক  ও দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বাহার বিপ্লবের প্রতি মনক্ষুন্ন ছিল। বিপ্লবের মৃত্যু কী ভাবে হয়েছে তারা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। তবে সমিতির নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। 

এ বিষয়ে কথা বলতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. এমদাদুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  

এদিকে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মোস্তফা কামালের মোবাইলে কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, মার্কেটের ভবন থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে এমনটাই জানিয়েছে দোকানদার সমিতির লোকজন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন