শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২২:২৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২২:২৪, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাগলাবাড়ি এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। যার ফলে দিনদিন ধ্বংসের পথে পতিত হচ্ছে এলাকার তরুণ যুবকরা। বর্তমান বিএনপি সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেও মিজমিজি পাগলাবাড়ি এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণে হিমসিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যার ফলে দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা। তরুণ ছেলে মেয়েদের হাতে মাদক পৌঁছে দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে প্রতিদিন এলাকায় চলছে লাখ লাখ টাকার মাদকের কেনাবেচা। এই মাদক ব্যবসার জন্য রয়েছে একাধিক সেলসম্যান। ফোন দিলেই হাতের মধ্যে পৌঁছে যায় ভয়ংকর এই মাদক।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে তাদের রয়েছে নিজস্ব গোয়েন্দা বাহিনী। তাদের কাজ হলো প্রশাসনের কোন লোকজন এলাকায় প্রবেশ করলে সাথে সাথে মুঠোফোনে মাদক ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেওয়া।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মিজমিজি পাগলাবাড়ি এলাকায় মাদক ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রণ করছে সুমি, রিতা, বকুল, লিমন, ইমরান, আব্বাস ও রহিমা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় হেরোইন, ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মরণ নেশা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের এই ‘ওপেন’ মাদক ব্যবসার কারণে এলাকায় এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা এতটাই প্রভাবশালী যে, কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করলে উল্টো বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বহিরাগত মাদকসেবীদের আনাগোনায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।
এলাকায় প্রতিনিয়ত চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন বলেও জানান তারা। তাদের দাবি, এই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় না আনলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও এলাকার তরুণ যুবকরা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
তাই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে এই মাদক ব্যবসায়ী সুমি, রিতা, বকুল, লিমন ও ইমরানসহ পুরো সিন্ডিকেটকে গ্রেপ্তার করার আহবান জানান তারা।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।