শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২২:২৬, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
বন্দরে দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দিয়ে এলাকায় ভেকু দিয়ে কাজ করতে যাওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ও কুপিয়ে ৫ জনকে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। আহতরা হলো- আসিফ (২২), আলমগীর (৪৫), জাহাঙ্গীর (৪৮) নাদিম (২৪) ও হাসান (২৬) । এদের মধ্যে আসিফ গুরুতর আহত হয়েছেন।
তিনি বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিবিৎসা নিয়েছেন। এই ঘটনায় তার পায়ের একটি রগ মারাত্মক জখম হয়েছে বলে জানিয়েছ স্বজনরা।
শুক্রবার দুপুরে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মাধবপাশার জিউধরা এই ঘটনাটি ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা নিজেদের বিএনপির নেতা ও সমর্থক দাবি করে এলাকায় তাদের চাঁদা না দিয়ে কাজ করানোকে স্পর্ধার কাজ বলে দাবি করেন। ঘটনার সময় বন্দর থানার পুলিশকে ফোন করে অবগত করলেও ফোর করার প্রায় সোয়া এক ঘন্টা পরে ঘটনা স্থলে পৌছায় পুলিশ।
এই ঘটনায় বিষয়ে জিউধরা এলাকার রবিউল মিয়ার ছেলে পারভেজ (২২) ও জয়নাল (২৮), এমদাদ হোসেনের ছেলে সজীব (২৫), আলতাফ প্রধানের ছেলে মানিক (৪০) দীন ইসলাম (৩৬) ও সাদ্দাম (৩২), শফি মিয়ার ছেলে মারুফ (২২) শাহ আলমের ছেলে জুবায়েদ আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর আগেও এদের বিরুদ্ধে একজনকে কুপিয়ে জখম করার ভিডিও ভাইরাল হয়।
ভূক্তভোগী আলমগীর হোসেন জানান, আমাদের একটি জমিতে বালু ফেলা হয়েছে। সেই জমির কাছাকাছি এক জায়গায় ভেকুর করছিল বলে তাদের কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা আমাদের জমিতে থাকা মাটিগুলো ভেকু দিয়ে সমান করার জন্য সেই ভেকুর লোকজনের সাথে কথা বলে আমাদের জমিতে নিয়ে আসি।
ভেকু দিয়ে যখন সেখানে মাটি সমান করার কাজ করছিল তখন আমরা সেখানে কেউ ছিলাম না। দুপুর আনুমানিক বারোটার দিকে চাঁদা না দিয়ে ভেকুর কাজ চলবে না এমন দাবিতে ভেকুর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পেয়ে আমি একা বিষয়টি জানতে সেখানে যাই।
সেখানে গিয়ে দেখি আমাদের এলাকারই কিছু পোলাপাইন। আমি অনেকটা বিস্মিত হয়েই তারা বন্ধ করছে কেন জানতে চাইলে তাদের অনুমতি ছাড়া এখানে ভেকু কিভাবে আনা হলো জানতে চায়। এই বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তারা আমাকে এলোপাথাড়ি মারতে (কিল-ঘুষি) শুরু করে এবং চাঁদা না দিয়ে কিভাবে কাজ করি দেখে নিবে বলে আবার আসতেছে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।
তখন জুম্মা নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় আমি মসজিদে চলে যাই। সে সময় আমার ইমিডিয়েট বড় ভাই জাহাঙ্গীর নামাজ পড়তে মসজিদে সামনে গেলে সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। হৈ-চৈ এর শব্দ পেয়ে অন্যান্য মানুষের সাথে আমি মসজিদ থেকে বেরিয়ে এসে দেখি আমার ভাইকে তারা মারতেছে। সেখানে থাকা উপস্থিত জনগণকে নিয়ে তাকে রক্ষা করি।
এরপর নামাজ শেষ হলে আমার বড় ভাইয়ের ছেলে আসিফ মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে তাকে প্রথমে লাঠিসোটা দিয়ে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পায়ের জখম করে। সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য লোক সমাগম মসজিদে দৌড়ে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। এ সময় পুকুর পার হতে মসজিদ পর্যন্ত এমনকি মসজিদের ভিতরেও রক্তে ভেসে যায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসে এ দৃশ্যের ভিডিও করে নিয়ে গেছে। এরপর আসিফকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
এলাকা পরিদর্শন করে এবং এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই পক্ষটি এর আগেও বেশ কয়েকটি রক্তাক্ত জখমের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পাশের আদমপুর এলাকায় তারা একজনকে কুপিয়ে জখম করছে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে তারা প্রকাশ্যে একজনকে কুপাইতেছে বলে দেখা যায়। সেই সব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাও আছে।
তারা নিজেদের বিএনপির নেতা ও কর্মী বলে দাবি করে এখানে সন্ত্রাসী করে বেড়ায়। আজকের ঘটনাটি প্রকাশ্য দিনের বেলায় এবং এলাকার মানুষের উপস্থিতিতেই করা হয়েছে। এলাকার জনগণ শক্ত হাতে প্রতিরোধ না করলে এবং তাদের হাত থেকে বাঁচতে মসজিদে প্রবেশ না করলে আসিফ নামের ছেলেটিকে হয়তো তারা মেরেই ফেরতো।
এই বিষয়ে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মানিক, দীন ইসলাম ও সাদ্দাম এর পিতা আলতাফ প্রধান বলেন, এলাকায় ভেকু আনছে চাঁদা চাইছে তাতে কি হয়েছে। চাঁদা চাইলেই কি বকা দিতে হবে। ওরা আওয়ামী লীগ করে আর আমরা বিএনপি করি। ওরা এত সাহস পায় কোথা থেকে?
তখন মোবাইলের ভিডিও চালু করে ওনাকে এই কথাগুলো পুনরায় বলতে বললে ওনি বলেন, না ভিডিওর সামনে বলমু কেন? ওনি বিএনপি করে বলেই পায়ের রগ কেটে দিতে হবে কি না জানতে চাইলে ওনি বলেন, ‘ওরা ভেকু এনে রাস্ত নষ্ট করছে এই জন্য ওরা টাকা চাইতে গেছে। আমি ২০ বছর যাবত বিএনপি করি।’
বিএনপি করলেই চাদাবাজি করা যায় কি না এবং ওনি বিএনপির কোন পদে আছেন জানতে চাইলে বলতে পারেননি। ওনি কার নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতি করেন তা জানতে চাইলেও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। এ সময় স্থানীয় জনগণ এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন।