শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২১:৪৬, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪৬, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
রূপগঞ্জে চাঁদার দাবিতে ইস্ট উড নামে একটি আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও পিটিয়ে জখমের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা করা হলেও আসামিরা জামিনে এসে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা সহ অন্যান্য আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জীবণনাশের আশংকায় আছেন বলে জানান প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রাণনাশের আশংকা করছেন ভুক্তভোগীরা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ই এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদার দাবিতে কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকার মৃত. আমির উদ্দিনের ছেলে ও কাঞ্চন পৌর যুবদলের আহবায়ক আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে নলপাথর এলাকার ইনোনেটিভ হোল্ডিং লিমিটের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান “ইস্ট ইউ” প্রকল্পে একদল সন্ত্রাসীরা রাম-দা, ছোরা, লোহার পাইপ সহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এতে বাঁধা দিলে ও চাঁদাদিতে অস্বীকার করলে প্রকল্পের ইনচার্জ জসিম উদ্দিন (৫০), ফিল্ড অফিসার সুজন (৩০)-কে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে সন্ত্রাসীরা। এ
সময় প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত চাঁদা না দিলে তাদের হত্যার হুমকী দেয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। পরে ওই রাতেই ইনোভেটিভ হোল্ডিং লিমিটেডের চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা শাহ মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজী, মারামারি ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলার আসামিরা হলেন, কাঞ্চন পৌরসভার কালাদীর আমির উদ্দিনের ছেলে ও কাঞ্চন পৌর যুবদলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ (৪৪), কাঞ্চনের তারাজ উদ্দিনের ছেলে রিপন (২৭), চরপাড়ার মৃত. সাহাজউদ্দিনের ছেলে দেওয়ান জাকির (৩০), কালাদী এলাকার মৃত. নুরুল ইসলামের ছেলে রফিজ উদ্দিন (৪৪), নরাবো এলাকার সবুজ (২৮), কালাদী এলাকার মৃত মারফত আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৪), একই এলাকার এনামুল হক (৩৫), চরপাড়া এলাকার মৃত. নায়েব আলীর ছেলে হাবিবুর (৪২), কালাদী এলাকার জিয়াউর রহমানকে নামীয় ও ২০-২৫জনকে অঙ্গাত আসামী করে মামলা করা হয়।
মামলার বাদী শাহ মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, ওই মামলায় পুলিশ এনামুল ও হাবিবুরকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। কিন্তু পুলিশ আসামি গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালেও আসামিরা আদালত থেকে জামিনে এসে অন্যান্য আসামিদের যোগসাজশে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে জীবণের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ইস্ট উড আবাসন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাই হতাহতের ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজন ব্যবস্থা নিতে আইনের সুদৃষ্টি চান তিনি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মাহফুজুর রহমান হূমায়ুন জানান, বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার দায় তাকেই (নিজেকেই) নিতে হবে। কারো অপকর্মের দায় দল নেবে না।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, ইস্ট উড নামে একটি আবাসন প্রকল্পে হামলা ও মারামারির ঘটনার মামলায় নামীয় ২ আসামি এনামুল ও হাবিবুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, আদালত থেকে আসামিরা জামিনে আসলে পুলিশের কিছু করার নেই। তবে, কেউ অপরাধ করে রূপগঞ্জে থাকতে পারবে না।