শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৮:৩০, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪২, ২১ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় রাজাপুর গুদারাঘাটের সিডিউল জমা নিয়ে বিএনপির সাথে জামায়াত ও এনসিপির দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এনসিপি সমর্থিত তাওহিদ তরিকুল ও বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু বকরসহ ৫ জন আহত হন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জামায়াতের অনুসারীরা দরপত্র জমা দিতে না পারলেও এনসিপির কর্মীরা দরপত্র জমা দিয়েছেন। এ ঘটনার পর টেন্ডার সিডিউল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
জানাগেছে, বক্তাবলী রাজাপুর গুদারাঘাটের সিডিউল জমা দিতে গেলে বিএনপির নজরুল গ্রুপ, রশিদ মেম্বার গ্রুপ ও এনসিপি সমর্থিত আলিফ দেওয়ান গ্রুপকে সিডিউল জমা দিতে একে অপরকে বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা, পরে ধাক্কাধাক্কি এবং সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি। প্রায় দুপুর দুইটা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংর্ঘর্ষ চলতে থাকে।
এতে এনসিপি সমর্থক তাওহিদ, তরিকুল ইসলাম ও বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু বকরসহ কয়েকজন আহত হন পরে তাদের বের করে দেয়া হয় উপজেলা প্রাঙ্গন থেকে। দরপত্র জমা দিতে না পেরে চলে যান জামায়াত অনুসারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিলো আজ। এই ঘাটের ইজারা নিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির অনুসারীরা আগ্রহী ছিলো। তবে সকাল থেকে পুরো সদর উপজেলা কেন্দ্র ঘিরে রাখে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর অনুসারী এবং বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী।
দুপুর ১টার দিকে টেন্ডার ড্রপের সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যেই এনসিপির লোকজন সিডিউল জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা ঘিরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে জামায়াত অনুসারীরা দরপত্র জমা দিতে না পেরে চলে যান ।
এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু বকর বলেন, এনসিপি নেতা তাওহীদকে বাঁচাতে গিয়ে আমি হামলার শিকার হই। আমার পরিচিত দুই ছোটভাই মোকলেসিন ও শাহীন দরপত্র জমা দিতে আসে। মারামারি ও বিএনপির বাঁধার কারনে তারা দরপত্র জমা দিতে পারেনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম, ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আবুল খায়ের, ৩ নাম্বার ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল প্রধান আমাদের মারধর করেছে।
এ বিষয়ে এনসিপি পন্থি আলিফ দেওয়ান অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ে সিডিউল জমা দিতে গেলে বিএনপির লোকজন বাধা দেয়। এ কারণে আমি আমার সিডিউল জমা দিতে পারিনি। তাদের হামলায় আমার একজন কর্মী তৌহিদ আহত হয়েছে।
পাশাপাশি, আমাদের আরেক কর্মী তরিকুল ইসলাম সিডিউল জমা দিতে গেলে বিএনপি’র লোকজন তাদেরকে বাধা দেয় মারধর করে। এতে আরো চারজন আহত হয়। তবে, তরিকুল তাদের বাধার পরেও সিডিউল জমা দিতে পেরেছিল।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু করার চেষ্টা করি যেন ঝুট ঝামেলা না হয়। গতরাত থেকেই আমি জামায়াত এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে বলেছি যে সম্মিলিত ভাবে ব্যবসা করার জন্য। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আমি ইউএনও ও ওসির সাথে কথা বলেছি। এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মিলেমিশেই কাজটি করা যেত।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, রাজাপুর খেয়াঘাটের অস্থায়ী ইজারা প্রদানের জন্য ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৭৫০ টাকা দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এতে ৪ জন সিডিউল দাখিল করেছে। মূল্যায়ন কমিটি আগামি ৩ কার্য দিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতার নাম ঘোষণা করবেন।
সদর ইউএনও আরও বলেন, অফিসের বাইরে কারা, কি নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছে সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক ফতুল্লা থানা পুলিশকে জানাই। পরে পুলিশ এসে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, সদর উপজেলায় রাজাপুর গুদারাঘাটের ইজারার সিডিউল জমা দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে, তবে কেউ আটক হয়নি।