নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ৬নং ওয়ার্ডবাসী, সাতঘোড়া সিমেন্টের ধুলায় বিপর্যয়ে পরিবেশ

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২১:০২, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৪, ২২ এপ্রিল ২০২৬

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ৬নং ওয়ার্ডবাসী, সাতঘোড়া সিমেন্টের ধুলায় বিপর্যয়ে পরিবেশ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬ নং ওয়ার্ড সুমিল পাড়াবাসী সাতঘোড়া সিমেন্ট কারখানার ধুলায় ধুসরিত হয়ে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ে সম্মুখীন হচ্ছে। এলাকাবাসী  শ্বাসকষ্ট, যক্ষা,  নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি, ক্যান্সার সহ দুরারোগ্যে ভুগছে। সরেজমিনে সুমিলপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সাতঘোড়া  সিমেন্ট কারখানার ডাস্ট (ধুলা)  বাতাসে উড়ে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।  

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর পূর্বে  সাতগোড়া সিমেন্ট কারখানাটি এই এলাকার নদীর পাড়ে গড়ে ওঠে। ফ্যাক্টরিটি চালু করার পর থেকেই  সিমেন্টের ধুলা উড়ে এসে বাতাসে ভেসে  বেড়ায়। ফলে এলাকায় বায়ু দূষণ ঘটছে। বাতাসে ভেসে থাকা ধূলিকণা মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকে মারাত্মক অসুখের সৃষ্টি করছে। 

ইতিমধ্যে এলাকার অনেক বয়স্কজন দূষিত বায়ুর কারণে শ্বাসকষ্ট, যক্ষাসহ নানা রোগে মৃত্যুবরণ করেছে।  এ ওয়ার্ডের শিশু-কিশোর সহ নারী-পুরুষ সকলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।  শ্বাসকষ্টে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। সিমেন্টের ধুলা গাছের পাতায় জমে থাকে, গাছপালা বাতাস থেকে  কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ ও অক্সিজেন ছাড়তে পারছে না।  

ফলে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডসহ বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে এবং অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, এলাকার গাছপালা নির্মূল হয়ে যাচ্ছে। গাছপালা না থাকায় এলাকায় রোদের তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। 

এলাকার মহিলারা জানান, আমাদের ঘরের সকল আসবাবপত্র, দেওয়াল, টিনের বেড়া , ঘরের ফ্লোরে সব সময় সিমেন্টের ধুলা লেগে থাকে। প্রতিদিন আমাদেরকে তিনবার গোসল করতে হয়। কাপড়, থালা বাসন বারবার পরিষ্কার করতে  হয় । 

এলাকার মুরুব্বীরা বলেন, আমাদের ঘরের চাল প্রতিবছরই নতুন করে লাগাতে হয়। এ ব্যাপারে ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, সাত ঘোড়া সিমেন্ট কারখানা এলাকাবাসীর জন্য  অভিশাপ। আমরা এলাকাবাসী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছি। কারখানার ধুলার কারণে এই এলাকা বসবােেসর অযোগ্য হয়ে পড়ছে। 

আমাদের পূর্ব পুরুষ ও বাপ দাদার ভিটামাটি ছেড়ে আমরা এখন কোথায় যাব। সাতঘোড়া সিমেন্টের মেইন গেট থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে ৯৩ নং সুমিলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। প্রতিদিন পর্যন্ত স্কুলের কোমলমতি  শত শত  শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টে ক্লাস করছে।

 এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ- ৩ আসনের এমপি, জেলা প্রশাসক, সিটি প্রশাসক ও ডিসি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। রুহুল আমিন বলেন, সিমেন্ট কারখানা এই এলাকা থেকে সরাতে হবে না হলে এলাকাবাসী কারখানার বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে। দীর্ঘ দিন  ধরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার জনগণ সিমেন্ট কারখানার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও সে ব্যাপারে কেউ এগিয়ে আসেনি। 

তবে অনেকে মাতব্বরি করে সিমেন্ট কারখানা থেকে অনেক ফায়দা লুটেছে বলে অভিযোগ  উঠেছে । এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা সিমেন্ট কারখানার ধুলাবালি যাতে পরিবেশ দূষণ না করে সে ব্যাপারে মালিক পক্ষের কাছে জোরালো দাবী জানিয়েছিলেন।   

 এ ব্যাপারে সিমেন্ট কারখানার এডমিন ম্যানেজার আলাউল হক বলেন এলাকবাসীর সমস্যার কথা আমরা জেনেছি এ বিষয়ে কারখানার ঊর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষের নিকট আলোচনা করা হবে। 

সিমেন্ট কারখানার ধুলার ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর উপ পরিচালক এ এইচ এম রাশেদের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন সাত ঘোড়া সিমেন্ট কারখানার ধুলার বিষয়ে এলাকাবাসী আমাদের কাছে কোন অভিযোগ করেনি। তারা লিখিত আবেদন করলে সে বিষয়ে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে  জানানো হবে ।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন