শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:৪১, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় এক ফল বিক্রেতার দোকান ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এমদাদুল হক।
এর আগে, ভুক্তভোগী মো. আজিজুল হক (৬০) গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। গ্রেপ্তারকৃত মো. সালাউদ্দিন (৫৫) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল সংলগ্ন বাজারে তার একটি ফলের দোকান রয়েছে। একই এলাকার সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দিয়ে আসছিল। পাশাপাশি বাজারের প্রতিটি দোকান থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে। কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান উচ্ছেদ করে দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া, অতীতে সালাউদ্দিন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করত এবং বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় দিয়ে আবারও বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে। এর আগে দোকান দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত এক মাস অসুস্থ থাকায় চাঁদা দিতে না পারলে শুক্রবার তিনি দোকান বসাতে গেলে সালাউদ্দিনসহ ৭-৮ জন এসে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় দোকানের প্রায় ৮০ হাজার টাকার ফল নষ্ট করে খালে ফেলে দেয় এবং দোকান ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে তার ছেলেকেও মারধর করে।
আজিজুল হক জানান, অভিযুক্তরা তাকে ও তার সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন, ফলে তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, সালাউদ্দিন ১ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি। সে বহিষ্কৃত নেতা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী ছিল। রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জপুলসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সড়ক ও দোকানপাট দখল করে সালাউদ্দিন তাঁর ভাই কামালসহ তার অন্যতম দুই সহযোগী আওয়ামী লীগের দোসর মোশারফ ও মোজাম্মেলের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। বর্তমানেও তাঁরা সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম ভাঙিয়ে বাজারে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার করছে।
এই চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা সালাউদ্দিনের ভাই কামালসহ তার অন্যতম দুই সহযোগী আওয়ামী লীগের দোসর মোশারফ ও মোজাম্মেকেও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক জানান, ফল বিক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা সত্যতা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কোট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, অভিযুক্ত সালাউদ্দিনকে আমরা বুঝে পেয়েছি তাকে আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কোন আদেশ হাতে পৌঁছেনি বলে তিনি জানান।