নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

‎ইউপি সদস্য হয়েও ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’!

‎বন্দরের আতঙ্ক ক্যাডার সোহেল র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৫:০৩, ৯ মে ২০২৬

‎বন্দরের আতঙ্ক ক্যাডার সোহেল র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

‎নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সোহেল ওরফে ‘ক্যাডার সোহেল’কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। 

জনপ্রতিনিধির পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও জমি দখলের অভিযোগে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে।
‎
‎র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুরের আন্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তিনি ওই এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য। পরে তাকে বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি সদস্য হওয়ার পর সোহেল মেম্বারের প্রভাব আরও বেড়ে যায়। জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন এবং তার বাহিনীর মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন।
‎
‎অভিযোগ রয়েছে, নতুন কোনো ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলেই তার বাহিনীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হতো। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া, হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটত নিয়মিত।
‎
‎এছাড়া ড্রেজার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনেক ব্যবসায়ী ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না পারলেও, আড়ালে তার বাহিনীর দৌরাত্ম্যের কথা জানিয়েছেন।
‎
‎স্থানীয় সূত্র বলছে, সোহেল মেম্বার ও তার সহযোগীরা প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জমি ও ভিটেমাটি দখল করত। ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নেওয়া কিংবা পেশিশক্তি প্রয়োগ করে উচ্ছেদের অভিযোগও রয়েছে।
‎
‎এলাকাবাসীর দাবি, সোহেল মেম্বারের ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় মাদকের বড় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের বেচাকেনা তার নিয়ন্ত্রণেই চলত বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎
এদিকে ‎সোহেল মেম্বার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধির পরিচয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালানোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন