নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রূপগঞ্জে এনজিওর নামে প্রতারণা, মিথ্যা মামলায় সব হারিয়ে নি:স্ব গ্র

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২২:০০, ১৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ২৩:২২, ১৭ মে ২০২৬

রূপগঞ্জে এনজিওর নামে প্রতারণা, মিথ্যা মামলায় সব হারিয়ে নি:স্ব গ্র

রূপগঞ্জে “নব জাগরণ শ্রমজীবী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি এনজিও ঋণ প্রদানের নামে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঋণ পরিশোধের পরও এনজিওটির অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গ্রাহকদের নামে-বেনামে মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করে আসছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এনজিওটির অপরাধের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে ভুক্তভোগী সহ স্থানীয়রা।

এসব প্রতারকদের বিচার চেয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আক্তার হোসেন নামে এক গ্রাহক গতকাল রবিবার রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন।

সরেজমিনে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৪ই মে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “ নব জাগরণ শ্রমজীবী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি এনজিওর নিবন্ধন (যার নং- ১৫০) নেন রূপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ ও গোয়ালপাড়া এলাকার কয়েকজন যুবক।

এনজিওটির তৎকালীন সভাপতি পদে আতিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি পদে মো. রুহুল আমিন, সম্পাদক পদে মামুন ভূইয়া, যুগ্ম সম্পাদক পদে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, কোষাধ্যক্ষ পদে সুশীল চন্দ্র সরকার, সদস্য সোনা মিয়া ভূইয়া দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এনজিওটি থেকে ঋণ নেয়ার শর্ত ছিল জামানত হিসেবে  গ্রাহককে তার নিজ নামীয় ও স্বাক্ষরিত খালি চেক প্রদান করতে হবে।

পরে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণ গ্রহনের কারণে সুদ সহ মাসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধ করতে হতো। কিস্তির টাকা পরিশোধ হলে জামানতের চেক ফেরত দেয়া হবে। তবে, নির্ধারিত সময় ও নিয়মে ঋণ পরিশোধের পরও এনজিওটির কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছ থেকে রাখা জামানতের চেক গুলো ফেরত না দিয়ে তাদের নিয়োজিত লোকবল দিয়ে গ্রাহকদের বিরুদ্ধে চেক ডিজওনারের অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের করে নানা ভাবে হয়রানি সৃষ্টি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

রাণীপুরা এলাকার আখতার হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, ২০১৭ সালের ২২মে নব জাগরণ শ্রমজীবী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের কাছে নিজ নামীয় যুমনা ব্যাংকের কাঞ্চন বাজার শাখার দুইটি খালি চেক নং (অ০১৮৯৪৩৯), (অ০১৮৯৪৪০) জমা রেখে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন এবং সুদ সহ নির্ধারিত সময়ে সকল টাকা ফেরত দেন। পরে ধারাবাহিকভাবে ২০১৮, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ সালে ঋণ গ্রহন করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল টাকা পরিশোধ করেন।

তারপর জামানতের চেক ফেরত চাইলে এনজিওটির সভাপতি আতিকুল ইসলাম চেক ফেতর দেই দিচ্ছি করে সময় খেয়াপন করেন। পরবর্তীতে তার নিয়োজিত লোক দিয়ে (অ০১৮৯৪৪০)( নং চেক দিয়ে ৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং- ৩৬৮/২০২৪ দায়ের করে হয়রানি করে আসছেন। অন্য চেকটিও ফেরত দেয়নি। এনজিওটির প্রতারণার বিচার চেয়ে রূপগঞ্জ থানা সহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

রাণীপুরা এলাকার আরেক ভুক্তভোগী ফিরোজা বেগম জানান, ২০১৭ সালের ২৮ই ডিসেম্বর রূপগঞ্জের দক্ষিণবাগ এলাকার “নব জাগরণ শ্রমজীবী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের কাছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) নিজ নামীয় চেক নং (১০৮৪৪০৫) জামানত রেখে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহন করেন। পরবর্তীতে নিধারিত ১২ কিস্তিতে সুদ সহ সব টাকা পরিশোধ করেন। পরে ২০১৯ সালেও তিনি পুনরায় ঋণ নেন এবং সুদ সহ নির্ধারিত সময়ে সকল টাকা পরিশোধ করেন।

তারপর জামানতের চেক ফেরত চাইলে দেই দিচ্ছি বলে চেকটি আর ফেরত দেননি বরং ২০২৪ সালের ২৮ই অক্টোর তার নিয়োজিত দক্ষিণবাগ এলাকার মাজহারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে চেক ডিজঅনারের অভিযোগ তুলে ৩ লাখ টাকা দাবি করে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা ১০৭৯/২০২৪ দায়ের করেন এবং তার পরিবারের সবাইকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছেন। এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করেন তিনি।

আরেক ভুক্তভোগী মোতালিব মিয়া জানান, নব জাগরণ শ্রমজীবী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড থেকে ঋণ গ্রহণে তাদের নিয়মানুসারে ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডের কাঞ্চন বাজার শাখার নিজ নামীয় একটি চেক নং (গঝঅ- ২৪৯৬৬২৮) জামানত রেখে ঋণ গ্রহন করেন এবং নির্ধারিত সময়ে সুদ সহ সকল টাকা পরিশোধ করেন। তারপরও জামানতের চেকটি এনজিও কর্তৃপক্ষ ফেরত না দিয়ে উল্টো ২ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে এনজিওটির ভাড়াটে লোকবল দিয়ে চেক ডিজঅনার করে ২০২৫ সালের ৩ই ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে উকিল নোটিশ পাঠান। এবং তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে জাগরণ শ্রমজীবী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি এনজিওর সভাপতি আতিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, সারাদেশেইতো প্রতারকরা বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে ঠকিয়ে আসছে। রূপগঞ্জে এমন কোন ঘটনা থাকলে অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন