শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:৩৩, ২৪ মে ২০২৬
ফতুল্লায় একই দিনে তিনটি আলাদা আলাদা ঘটনায় ৫, ১১ এবং ৬ বছর বয়সী তিন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ হয়েছে। তিনটি ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকেই আটক করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
প্রথম ঘটনায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লায় জসিম মিয়ার বাড়িতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করে তারই প্রতিবেশী আনোয়ার (৪৮)। জামালপুরের ইসলামপুর থানার ধনতলা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার ওই বাড়িতে শিশুটির পরিবারের পাশের রুমে ভাড়া থাকত।
শিশুর বাবা-মা দুজনই গার্মেন্টসকর্মী। ঘটনার দিন সকালে তারা কর্মস্থলে গেলে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোবাইলে চার্জ দেওয়ার ছল করে শিশুর রুমে ঢুকে নির্যাতন করে আনোয়ার। রাত ৮টায় মা বাসায় ফিরলে শিশুটি তাকে ঘটনা জানায়। পরদিন রোববার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় আনোয়ারকে আটক করে পুলিশ।
দ্বিতীয় ঘটনায়, ফতুল্লার বক্তবলি প্রতাপ নগর এলাকায় আব্দুস সালামের মেয়ে ১১ বছর বয়সী শিশু সালমা(১১) কে ধর্ষণের চেষ্টা করে নাজির হোসেন (৩৬)। পরিবার জানায়, অভিযুক্ত শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। তবে শিশুটি তাকে কামড় দিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পরে নাজির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তৃতীয় ঘটনায়, সামিয়া নামের ৬ বছরের শিশুকে জহির শেখ (৭৮) বয়সী এক ব্যক্তি ধর্ষণের চেষ্টা করে। স্থানীয়রা জানান শিশুটি আরজুর বাড়ির ভাড়াটিয়া সে দোকান থেকে কিছু কিনতে গেলে তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ চেষ্টা করে। শিশুটি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন জেনে যায়। স্থানীয়রা এসে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মাহাবুবুর আলম জানান, প্রথম ঘটনায় নির্যাতিত শিশুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকি দুটি ঘটনায়ই ভুক্তভোগীর অভিভাবকরা থানায় রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
সুশাসনের জন্য নাগরিক নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, বিচারহীনতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে ধর্ষণের ঘটনাগুলি বেড়ে গিয়েছে। বিশেষভাবে দেশব্যাপী এই বিষয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়াতে ছোট ছোট বিষয়গুলো গণমাধ্যমে চলে আসছে বলে আমাদের কাছে সংখ্যা বেশি মনে হচ্ছে, কিন্তু এটিই বাস্তব চিত্র।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২২ মে রাতে ফতুল্লার বক্তাবলি এলাকায় সাত বছরের আরেক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। আসামি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে আছে।