নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে চাঁদা না পেয়ে গার্মেন্ট কর্মকর্তার রগ কাটল সন্ত্রাসীরা

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২১:৫৪, ১ জুন ২০২৬

বন্দরে চাঁদা না পেয়ে গার্মেন্ট কর্মকর্তার রগ কাটল সন্ত্রাসীরা

বন্দরে পূর্ব শত্রুতা ও চাঁদা দাবির জের ধরে কাজী সুমন (৪৫) নামে এক গার্মেন্টস কর্মকর্তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন মহিউদ্দিন ডকইয়ার্ডের সামনে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীরা তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও পিটিয়ে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত কাজী সুমন বন্দর আমিন আবাসিক এলাকার মৃত কাজী আবুল খায়ের মিয়ার ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় ‘নিটিং ডাইং ম্যানেজার’ হিসেবে কর্মরত আছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আমিন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা কাজী সুমনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় চিহ্নিত বখাটে ও সন্ত্রাসী চোরা মতিন তার সন্ত্রাসী ছেলে রাব্বি ও রাসেলের বিরোধ চলছিল। বেশ কিছুদিন ধরে রাব্বি,রাসেল ও লেবার রাসেলসহ কয়েকজন সুমনের কাছে অনৈতিকভাবে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শনিবার সকালে চোরা মতিনসহ তার সন্ত্রাসী ছেলে রাব্বি ও রাসেল এবং লেবার রাসেসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী সুমনের বাড়ির সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসে।

এরই জের ধরে সকালের হুমকির পর, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কাজী সুমন বন্দর খেয়াঘাট এলাকার মহিউদ্দিন ডকইয়ার্ডের সামনে একা পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে সন্ত্রাসী রাব্বি তার হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে সজোরে কুপিয়ে কাজী সুমনের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। এ সময় রাসেলসহ বাকি হামলাকারীরা তাকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। সুমনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে সুমন জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় কাজী সুমনকে উদ্ধার করে দ্রুত বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান।

ঢামেক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ক্ষত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা যায়।

এ বর্বরোচিত হামলার বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ বলেন,অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন