শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৫:০০, ৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২০:২৫, ৬ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ফারজানা আক্তার নিহা (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ জুন) সকালে সানারপাড় মনু মিয়া মার্কেট এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়ার সাততলা ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহা কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার জামাল হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী সুমন মোল্লা তার স্বামী সুমন মোল্লার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার রুদ্রপাড়া এলাকায়। তিনি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ভিডিও জার্নালিস্ট।
এদিকে, এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহার দুই পা বিছানায় ঠেকানো ছিল এবং বাঁ হাত দিয়ে গলার ওড়না ধরা ছিল। প্রতিবেশীরা আসার আগেই স্বামী দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকায় ঘটনাটি নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহার মা নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় স্বামী শাশুড়িসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন, স্বামী সুমন মোল্লা (৩২), শাশুড়ি ছালমা বেগম (৫০), ননদ শিল্পী বেগম (৩৮) এবং সুমনের বন্ধু তুষার আহম্মেদ ভূঁইয়া (৩৪)। পুলিশ মামলার সূত্র ধরে নিহতের স্বামী সুমন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা পৃথক কক্ষে ঘুমাতে যান। সকালে সুমন মোল্লা স্ত্রীর কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে তিনি ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ছালমা বেগম ও ননদ শিল্পী বেগমের প্ররোচনায় নিহার ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতেন স্বামী সুমন। সম্প্রতি সুমনের বন্ধু তুষার আহম্মেদ ভূঁইয়ার সঙ্গে মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ে সুমন এবং মাদকের টাকার জন্য নিহাকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।
ঘটনার দিন সকালে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে বিবাদীরা নিহাকে গালিগালাজ করে বলেন, তুই গলায় ফাঁস নিয়া আত্মহত্যা কর গিয়া। এই গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরেই নিহা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান স্বামী সুমন মোল্লাকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত নিহার পরিবারের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।