নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রূপগঞ্জে ২ সপ্তাহ ধরে পৌর বর্জ্য অপসারণ বন্ধ : দুর্গন্ধে দুর্ভোগ

পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৬:৪৫, ১৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪২, ১৭ জুন ২০২৬

রূপগঞ্জে ২ সপ্তাহ ধরে পৌর বর্জ্য অপসারণ বন্ধ : দুর্গন্ধে দুর্ভোগ

রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ বন্ধ রয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পৌরবাসীর উচ্ছিষ্ট বর্জ্য সেকেন্ডারি পয়েন্টে জমে সারা পৌর এলাকায় ছোট ছোট ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে বিকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পুরো পৌর এলাকা জুড়ে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার পরিবর্তন হওয়ায় এ সমস্যাটি তৈরি হয়েছে। সমাধানে চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তারা এই সমস্যার সমাধান করে ময়লা অপসরণ শুরু করবে।

জানা গেছে, তারাবো পৌরসভায় লাখো মানুষের বসবাস। শিল্প এলাকা হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে অসংখ্য মানুষ এই তারাবো পৌরসভায় এসে কাজ করছেন। 

আর এখানে বসবাসরত মানুষের বাসা বাড়ির নিত্যদিনের ব্যবহারের উচ্ছিষ্ট ময়লা আবর্জনা সেকেন্ডারি পয়েন্টে ফেলা হয়। সেখান থেকে ভ্যানে করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নির্ধারিত স্থানে নিয়ে ফেলে।

গত তিন বছর এ কাজ করতেন সাইফুল ইসলাম নামের একজন ঠিকাদার । তিনি তিন বছর মেয়াদে তারাবো পৌরসভার টেন্ডার এর মাধ্যমে পৌর এলাকার বাসা বাড়ি থেকে ৬০ টাকা করে নিয়ে ময়লা অপসারণ করে ভ্যানে করে নির্ধারিত স্থানে ফেলতেন । 

তার চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন ঠিকাদার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন তিন বছর মেয়াদে এই কাজটি পেয়েছেন। টেন্ডার পাওয়ার ১২ দিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ভ্যানে করে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কাজ শুরু করেতে পারেনি।

ফলে সেকেন্ডারি পয়েন্টে বাসা বাড়ি, দোকানপাট ও হাট বাজারের ব্যবহৃত ময়লা আবর্জনা জমে পুরো পৌরসভা জুড়ে বিভিন্ন এলাকা ছোট ছোট ভাগারে পরিণত হয়েছে। 

এতে করে পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধে জনদুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। ময়লার সেকেন্ডারি অপশনের আশপাশ দিয়ে নাকে রুমাল চেপেও চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। 

দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়লা আবর্জনা অপসারণ করে জনদুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা । 

নোয়াপাড়া এলাকার বাবুল হোসেন বলেন, আমরা এ গ্রেডের পৌরসভার বাসিন্দা। অথচ সেই মানের সেবা পাচ্ছিনা। প্রায় দুই সপ্তাহ হয়ে গেল পৌরসভা ময়লা নিচ্ছেন। রাস্তার পাশে ময়লার স্তুপের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। 

বরাবো এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, পৌরবাসীর ব্যবহার্য উচ্ছিষ্ট বর্জ্য এলাকায় সেকেন্ডারি পয়েন্টে জমতে জমতে ছোটখাট ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে।

তারাবো পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদ প্রার্থী  নজরুল ইসলাম বাদল বলেন, প্রতিটি বাড়িতে এবং সেকেন্ডারি পয়েন্টে এখন ময়লা জমে আছে। 

মানুষের কাছে গেলে স্থানীয়রা বলেন, ময়লা এখন বড় সমস্যা ময়লা সরানোর ব্যবস্থা করেন পৌরবাসী ভোগান্তিতে আছে কর্তৃপক্ষ উচিত জরুরি ভিত্তিতে এর সমাধান করা।

এ বিষয়ে ঠিকাদার আলতাফ হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তারাবো পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যারা এই কাজটি পেয়েছে তারা অচিরেই কাজ শুরু করবেন। পাঁচ থেকে সাত দিনের সময় লাগছে। এই ময়লা গুলো ফেলানোর জন্য এক ধরনের স্পেশাল ভ্যানের প্রয়োজন হয় সেগুলো তাদের ছিল না। 

আমাদের সাথে কথা হয়েছে আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবে। যদি ময়লা অপসারণের কাজ শুরু না করেন তাহলে আমরা টেন্ডার বাতিল করবো এবং আমরা নতুন রিটৈন্ডারে যাবো।

 

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন