শিরোনাম:
পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৩:১১, ২২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২২:০৪, ২২ জুন ২০২৬
চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) এর বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার দিনগত রাত দেড়টার দিকে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু লিখিত অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরে তার বক্তব্য নিয়ে মুচলেকা নিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ ও তার বক্তব্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, কোন চাপের কারণে তাকে ছাড়া হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসানুজ্জামান বলেছেন, সামগ্রিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।
ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে আটকের পর নারায়ণগঞ্জে ডিবি কার্যালয় জিজ্ঞাসা করা হয়।
পরে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি জানান, সজীবের বিরুদ্ধে আগে যেসব মামলা ছিল তার অধিকাংশ প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি হয়েছে। অন্যগুলোতে তিনি জামিনে আছেন। তার বিরুদ্ধে এখন কোনো মামলা নেই।
এর আগে, রোববার দুপুরে রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।
পরে বিকাল ৫টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। রাতে তাকে ঢাকা আনা হয়।
গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়েছি। তাকে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয়।
পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
এদিকে আটকের পর পরই জেলা যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে খাইরুল ইসলাম সজীবকে। রোববার রাতে যুবদলের প্যাডে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
সেখানে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অপরদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খায়রুল ইসলাম সজীব।
ষড়যন্ত্রমূলক এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা চাঁদাবাজির নাটক সাজিয়েছিল, যা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
একই সাথে তিনি দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি উস্কানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিহার করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে সঠিক সত্যটি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা হলেন সমাজের দর্পণ। আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, কোনো পক্ষের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে, যেকোনো সংবাদের সত্যতা ও সঠিক তথ্যটি সাহসিকতার সাথে তুলে ধরুন। সত্যের জয় চিরকালই নিশ্চিত।
অন্যদিকে, পুলিশের হেফাজত থেকে ছেড়ে দেয়ার খবর সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে।
রাজপথের আন্দোলনে সাহসী যোদ্ধা হিসেবে খ্যাত যুবদল নেতা সজিবের সাথে ঘটা ঘটনাটিকে একটি গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন নেতাকর্মীরা।
একই সাথে, এই মিথ্যা অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে যুবদল থেকে তার বিরুদ্ধে যে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।