শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৬:৩৯, ১৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৪০, ১৫ জুলাই ২০২৬
বাবার সম্পত্তি বা অর্থ নিয়ে বিরোধের ঘটনায় সাধারণত ছেলেদের নামই বেশি শোনা যায়। তবে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ঘটেছে ভিন্ন এক ঘটনা। ৭৭ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. নাসিরুল্লাহ নবু অভিযোগ করেছেন, তার দুই মেয়ে ব্যাংকে থাকা অর্থের লোভে তাকে নিজেদের কাছে নিতে চাইলেও ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী।
এমনকি অতীতে তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। বর্তমানে নাসিরুল্লাহ নবু বন্দরের ইস্পাহানি একরামপুর এলাকায় তার শ্যালিকার ছেলে বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে বসবাস করছেন।
পরিবারের দাবি, গত সাত মাস ধরে বিল্লাল হোসেনই তাকে নিজের বাবার মতো সেবা-যত্ন ও ভরণপোষণ করে আসছেন। এ সময়ে তার দুই মেয়ে কোনো ধরনের খোঁজখবর বা আর্থিক সহযোগিতা করেননি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি দুই মেয়ে জানতে পারেন যে নাসিরুল্লাহ নবুর ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে। এরপর তারা তাকে নিজেদের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি তাদের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিল্লাল হোসেনকেও মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে ।
এ ঘটনার পর নাসিরুল্লাহ নবু বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি তার দুই মেয়ে রাশিদা আক্তার শীলা ও সখিনা বেগম এবং সাগর শেখ নামে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন।
লিখিত অভিযোগে নাসিরুল্লাহ নবু উল্লেখ করেন, দুই মেয়ের জন্ম থেকে শুরু করে লালন-পালন, লেখাপড়া ও বিয়ের যাবতীয় খরচ তিনি নিজেই বহন করেছেন। কিন্তু বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর তার দুই মেয়ে তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর পাঁয়তারা শুরু করেন। পরে তার স্ত্রীর বোনের ছেলে বিল্লাল হোসেন তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন এবং গত সাত মাস ধরে তার দেখাশোনা করে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করে জনতা ব্যাংকের নবীগঞ্জ কিল্লাপুল শাখায় থাকা তার হিসাব থেকে ব্যাংক-টু-ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২০ জুন দুপুরে বিবাদীরা তার বর্তমান বাসায় এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।
এছাড়া গত ১ জুলাই বিল্লাল হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করে তাকে এবং নাসিরুল্লাহ নবুকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নাসিরুল্লাহ নবু বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।