শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:২০, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:২১, ২২ জুলাই ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমানের অন্যতম সহযোগী সেই মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ভুয়া দলিল দিয়ে আপন ছোট ভাইয়ের জায়গা জোর পূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী মাহবুব হোসেন মানিক সংবাদ সম্মেলন করে মনির হোসেনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে আইনশৃংখলাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এসময় মাহবুব হোসেন মানিক বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমানের অন্যতম সহযোগী মনির হোসেনের বিরুদ্ধে রাস্ট্রীয় একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে সীমাহীন প্রতারণা, জালিয়াতি ও অবৈধভাবে জমি দখলসহ এলাকার স্থানীয় ও আপন ছোট ভাইকে স্বপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসার অভিযোগ আছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে নাসিক ১নং ওয়ার্ডস্থ সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর যাবৎ বড়ভাই মনিররে সঙ্গে পারিবারিকভাবে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা জর্জ আদালতে একটি চাঁদাবাজি ও অপহরণের মামলা দায়ের করলে, উক্ত মামলাটি সঠিক স্বাক্ষ্য, প্রমাণের ভিত্তিতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি খারিজ হয়ে গেলে, পুনরায় মাদারীপুর জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে একজন প্রতারক মহিলাকে দিয়ে মিথ্যা কাবিননামা বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি যৌতুকবিরোধী মামলা দায়ের করেন। পুলিশের সঠিক তদন্তে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আমাকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
মানিক অভিযোগ করেন, বিগত ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রয়ারি সালে ক্রয় সূত্রে মালিক একটি জমি তার ভুয়া স্ত্রী উম্মে সালমাকে দিয়ে একটি হেবা নামা জাল দলিল তৈরি করে উক্ত জমি যবর দখলের চেষ্টা করলে, ভুক্তভোগী মানিক আদালতে ঐ ভুয়া দলিলটি বাতিলের জন্য একটি মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত দলিল বাতিলের মামলায় বিবাদী মনির আদালতের ধার্যকৃত কোন তারিখেই হাজির না থাকা এবং সঠিক সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির না করার কারণে বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।
এমতাবস্থায় প্রতারক মনির হোসেন, আমার বিরুদ্ধে সকল প্রকার হামলা/মামলা ও ষড়যন্ত্র করেও সফল না হওয়ায়, বর্তমানে বিএনপির কিছু নামধারী নেতাকর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে হুমকি/ধামকি ও উক্ত মামলা প্রত্যাহারসহ আপস মীমাংসা না-করলে স্বপরিবারে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি/ধানকি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
এছাড়াও আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করতে এবং আমার সামাজিক অবস্থান নষ্ট করতে গত কয়েকদিন যাবত গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। এসব কর্মকাণ্ডকে তিনি মনিরের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়া, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও জালিয়াতি, প্রতারণা, ভুয়া দলিল তৈরি এবং সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগ একাধিকবার গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী মানিক প্রতারক মনিরের সকল ষড়যন্ত্র ও হুমকি-ধামকি থেকে মুক্তি পেতে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান মামলার সুষ্ঠু ও আইনগত নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ের সত্যতা জানতে মো. মনির হোসেনকে একাধিকবার ফোন করার পর একপর্যায়ে তিনি তার মোবাইল ফোন রিসিভ করে এবং অভিযোগের সকল বিষয়েই অস্বীকার করে ফোনটি কেটে দেন।