শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২২:২৩, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:২৪, ২২ জুলাই ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি থানা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি এবং তার একাধিক ক্যাডার বর্তমানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হলেও তার অন্যতম সহযোগী একাধিক হত্যা মামলার আসামী আব্দুস সামাদ প্রকাশ্যে ঘুরলেও রহস্যজনক কারণে রয়েছে অধরা।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর আব্দুস সামাদ প্রকাশ্যে এলাকায় বিচরণ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। তিনি গোদনাইল মন্ডলপাড়া এলাকার আসাদ কন্ট্রাকটরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, আব্দুস সামাদ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলার আসাসি হওয়ার পর কিছু দিন আত্নগোপনে থেকে এখন নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডে এসেই আওয়ামী লীগকে সেল্টার দেয়া শুরু করেছে। কিছু হাইব্রিড মার্কা কিছু বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মিছিল মিটিং এর জন্য অর্থের যোগান দিচ্ছে আব্দুল সামাদ।
এক সময় নুন আনতে পানতা ফুরালেও ডিপুতে তেল চুরি দিয়েই তার জীবন যাত্রা শুরু। আওয়ামীলীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার অল্প কিছুদিন পর সিরাজ মন্ডলের সহযোগিতায় মেঘনা ডিপুতে তৈল চুরির পাশাপাশি করে শুরু করে চাঁদাবাজি আর এতে করে বনে যায় কোটি কোটি টাকার মালিক।
আওয়ামী লীগ দোসর সিরাজ মন্ডলের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের প্রথম ৫ বছরের তিনি তেল চুরি করে অনেক টাকার মালিক হয়েছে। তার পর কাউন্সিলার পদে মতির সাথে ফেল করায় সিরাজকে পল্টি দিয়ে যুবলীগ ক্যাডার মতির ছত্রছায়া চলে যায় চতুর আব্দুস সামাদ। শুধু তাই নয় তার রয়েছে বিশাল জাহাজ ব্যবসা। এছাড়াও বর্তমানে নয়টি বাড়ির মালিক ও ৭ থেকে ৮টি পেট্রোল পাম্পের মালিক। ২৫ থেকে ৩০ টা তেলের লড়ি গাড়ি রয়েছে তার।
রয়েছে জানা-অজানা অনেক সম্পদ এত সম্পদ এই ১৭ বছরে কোথায় থেকে এলো তা সকলের প্রশ্ন। ট্যাংকলরী মালিক সমিতির সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য কিছু দিন আগে ৮ নং ওয়ার্ডেও একটি বাড়ি বিক্রি করেছে বলে চাউর রয়েছে।
ট্যাংকলরী মালিক সমিতি গোদনাইল মেঘনা শাখার কমিটি আনার জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আব্দুস সামাদ। অথচ কেন্দ্রের নির্দেশ কোন ফ্যাসিস্ট যেনো কমিটিতে স্থান না পায়। তাই টাকার বিনিময়ে এমপি’র পিএসকে দিয়েও কেন্দ্রে ফোন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে কমিটি আনার চেষ্টা করায় কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ভয়ে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেনা।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন যুব লীগ ক্যাডার মতি এবং সিরাজের ছত্রছায়া থেকে তেলের ডিপুতে চাঁদাবাজি করে পাহাড় পরিমাণ সম্পদ করে এই আব্দুস সামাদ। তাদের প্রশ্ন শীর্ষ সন্ত্রাসী মতি গ্রেপ্তার হলেও তার অন্যতম সহযোগী হত্যা মামলায় ৬২ নম্বর আসামি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়ে কিভাবে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে এলাকায় অবস্থান করছে।
আব্দুস সামাদ এর সার্বিক সহায়তায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগ প্রকাশ্যে মিছিল বিক্ষোভ বিভিন্ন প্রভাকান্ড সৃষ্টি করছে। তারা আরও বলছেন, অর্থ বিত্তের প্রভাবে অদৃশ্যভাবে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে তাকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয়ার মিশনে নেমেছেন এই চতুর আব্দুস সামাদ। ইতিমধ্যে ফতুল্লা থানায় দায়ের করা একটি বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার আসামি থাকা চার্জশিট থেকে তার নাম কাটিয়েছেন এই সন্ত্রাসী আব্দুস সামাদ ।
তাদের দাবি, নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় শান্তিশৃংখলা রক্ষা ও বড় ধরনের নাশকতা ঘটনার আগেই আইনশৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ একান্ত জরুরী। সন্ত্রাসী আব্দুস সামাদকে আইনের আওতায় এনে দুদুকের মাধ্যমে তদন্ত করলেই আওয়ামী লীগ সম্পতৃতা ও তার অঢেল ধন সম্পদ অর্জনের তথ্য বেরিয়ে আসবে
এ বিষয়ে কথা বলতে আব্দুস সামাদকে ফোন দিলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মুন্সী মিজানুর রহমান বলেন, অপরাধী যতই শক্তিশালী হউক না কেন অভিযোগ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা।