নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি

ফ্যাসিস্ট দোসর সামাদ ট্যাংকলরী মালিক সমিতি গোদনাইল মেঘনা শাখার সভাপতি হতে চান!

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ০০:৫৯, ২৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০১:৩৬, ২৪ জুলাই ২০২৬

ফ্যাসিস্ট দোসর সামাদ ট্যাংকলরী মালিক সমিতি গোদনাইল মেঘনা শাখার সভাপতি হতে চান!

নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের আতংকের অপর নাম ফ্যাসিস্ট দোসর আব্দুস সামাদ। আওয়ামী সরকারের  পতনের পর পালিয়ে গেলেও সম্প্রতি ফিরেছেন এলাকায়।

চারদিকে আতংক প্রকাশ্যে মাঠে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি সন্ত্রসী মতি ও সিরাজের অন্যতম সহযোগী একাধিক মামলার আসামি সেই সামাদ।

এক সময়ে এমন কোনো অপকর্ম নেই যা এই সামাদের মাধ্যমে সংগঠিত না হয়েছে। সামান্য গাড়ির হেলাপার থেকে বনে যান কোটি কোটি টাকার মালিক ও বিত্তশালী।  

তার বাবা আসাদ ২০০৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পযর্ন্ত একটি ফিলিং ষ্টেশনে দারোয়ানের কাজ করত তার ভাই নিজাম গোদনাইল এসও রোডের গাড়ি ধোয়া মোছার কাজ করত আর এটিএফ গাড়ীর হেলপার ছিল। এর সুবাধে সামাদ ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে গড়ে তুলে সখ্যতা। আর জড়িয়ে পড়েন তেল চুরির কারবারে। এক সময় নুন আনতে পানতা ফুরালেও ডিপুতে তৈল চুরি দিয়েই শুরু হয় তার জীবন যাত্রা। 

এদিকে দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর প্রকাশ্যে আসার পরই আব্দুস সামাদ এবার ট্যাংকলরী মালিক সমিতি গোদনাইল মেঘনা শাখা কমিটির সভাপতি হওয়ার মিশনে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ টার্গেটকে বাস্তবায়ন করতে  আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করে নির্বাচন করার জন্য মাঠে নেমে পড়েন। যা দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ফ্যাসিস্ট দোসর আব্দুস সামাদ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পরও কি ভাবে ট্যাংকলরী মালিক সমিতি গোদনাইল মেঘনা শাখা কমিটির সভাপতি হতে চান ? ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার অল্প কিছুদিন পর সিরাজ মন্ডলের সহযোগিতায় মেঘনা ডিপুতে তৈল চুরির পাশাপাশি করে শুরু করে চাঁদাবাজি আর এতে করে বনে যান কোটি কোটি টাকার মালিক ও বিত্তশারী। 

এদিকে দেশে ফেরার পর ফ্যাসিস্ট দোসরদের সহযোগী সামাদ ভোল পাল্টিয়ে বর্তমানে অসাধু লোকজনদের ম্যানেজ করে পূর্বের অপরাধ সাম্রাজ্য দখলের পায়তারায় নামেন। ট্যাংকলরী মালিক সমিতি গোদনাইল মেঘনা শাখার কমিটি আনার জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। অথচ কেন্দ্রের নির্দেশ কোন ফ্যাসিস্ট যেনো কমিটিতে স্থান না পায়।

অপরদিকে ট্যাংকলরী মালিক সমিতির সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য কিছু দিন আগে ৮ নং ওয়ার্ডের একটি বাড়ি দেড় কোটি টাকায় বিক্রি করেন বলে চাউর রয়েছে। এমনকি টাকার বিনিময়ে এমপি’র পিএসকে দিয়েও কেন্দ্রে ফোন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয় মহল ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গুঞ্জন বইছে শীর্ষ সন্ত্রাসী মতি ও সিরাজ গ্রেপ্তার হলেও তার অন্যতম সহযোগী হত্যা মামলায় ৬২ নম্বর আসামি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়ে কিভাবে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে এলাকায় অবস্থান করছে।

এই আব্দুস সামাদ অর্থের যোগান দিয়ে সার্বিক সহায়তা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগ প্রকাশ্যে মিছিল বিক্ষোভ করে এলাকার শাস্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তুলছে। এরফলে যেকোনো সময় বড় ধরণের নাশকতার আতংকে রয়েছেন তারা। 

আওয়ামী লীগ দোসর সন্ত্রসী আব্দুস সামাদকে আইনের আওতায় এনে এলাকার শান্তি শৃংখলা ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রার পরিবেশ বজায় রাখতে র‌্যাব. পুলিশ ও আইনশৃংখলাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। 

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন