নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ০৯:০৯, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:২৮, ২৭ জুলাই ২০২৬

সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

সোনারগাঁয়ে চরহোগলা বালুরঘাট এলাকায় রাজু আহম্মেদ (৩৮) নামে এক বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এলে পরিবারের নারী ও অন্য সদস্যদেরও মারধর করে আহত করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা বালুরঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু আহম্মেদ ওই এলাকার বাসিন্দা আয়নাল হক ও সালেহা বেগম দম্পতির ছেলে। স্ত্রী সুমাইয়া,ও দুই ছেলে, এবং বাবা-মা ভাই বোন নিয়ে তার সংসার। নিহত রাজু স্থানীয়ভাবে গরুর খামার পরিচালনা করতেন।

পরিবারের দাবি, রাজু অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও কয়েক মাস আগে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। নিহতের বড় বোন সোনিয়া বেগম ও ছোট বোন রুমি আক্তার অভিযোগ করেন, রাজু দীর্ঘদিন এলাকায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। 

এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

স্থানীয় লোকজন জানান, ঘটনার রাতে রাজুর এক ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় নুরুল ও জাকিরের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে রাজু সেখানে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের নেতৃত্বে জাহিদ, নুরুল ও জাকিরসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। ফুফাতো ভাইকে না পেয়ে তারা রাজুর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে পরিবারের নারী ও অন্য সদস্যদেরও মারধর করে আহত করা হয়।

শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিহত রাজু বিএনপির কোনো পদধারী নেতা নয়।  তবে বিএনপির সমর্থক ছিলো। বর্তমানে সে একটি গরু খামারি বলে জানতে পেরেছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত বলেন, আমি ৩ দিন যাবত নারায়ণগঞ্জ শহরে আছি।  আমার বাবা বয়ষ্ক মানুষ৷  আধিপত্য বিস্তারের জন্য আমাদের নিয়ে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে।  আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নই।  

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এটি রাজনৈতিক বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণে সংঘটিত হয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ, আলামত জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন